চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানা এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূরকে বদলি করা হয়েছে। তাঁকে ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) পদায়ন করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন স্বাক্ষরিত আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আদেশ অনুযায়ী, বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগ দিতে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ছাড়পত্র নিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। তা না হলে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁদের ‘তাৎক্ষণিক অবমুক্ত’ বা স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য করা হবে।
গত ১৭ জুন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) আদেশে কোতোয়ালি থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পান আবু জায়েদ। এর আগে পটিয়া ও সন্দ্বীপ থানায় একই পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
ওসির বদলির আগে কোতোয়ালি থানা এলাকায় দুটি ঘটনা ব্যাপক আলোচনায় আসে। এর একটি ছিল থানার পেছনে প্রকাশ্যে ছিনতাই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শনিবার সকালে পাথরঘাটার সতীশ বাবু লেনে একটি রিকশার যাত্রীকে ছুরি দেখিয়ে টাকা ও মুঠোফোন নিয়ে যাচ্ছেন দুই ব্যক্তি। পরে তাঁরা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে সেখান থেকে চলে যান।
ঘটনাস্থল কোতোয়ালি থানার পেছনে হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এরপর পুলিশ স্বপ্রণোদিতভাবে অভিযান চালিয়ে মনির হোসেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত অটোরিকশাটি জব্দ করে। বাকি দুজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অন্যদিকে, নগরের লালখানবাজার-কাজীর দেউড়ি সড়কে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ঝটিকা মিছিলের ছবি ও ভিডিওও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ব্যস্ত সড়কে এমন কর্মসূচির ঘটনায় কোতোয়ালি থানা পুলিশের নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
আবু জায়েদের বিরুদ্ধে বিতর্ক অবশ্য এর আগেও তৈরি হয়েছিল। গত বছরের ১ জুলাই রাতে পটিয়া থানার ওসি থাকাকালে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের এক নেতাকে সোপর্দ করা নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশ-থানা কর্তৃপক্ষের বিরোধ দেখা দেয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, থানায় তাঁদের ওপর লাঠিপেটা করা হলে অন্তত ২৩ জন আহত হন। পুলিশের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বলপ্রয়োগ করতে হয়েছিল।
এর প্রতিবাদে আন্দোলনকারীরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এবং ডিআইজি কার্যালয় ঘেরাও করেন। প্রায় নয় ঘণ্টা অবরোধের পর আন্দোলনের মুখে পরদিন রাতে আবু জায়েদকে পটিয়া থানা থেকে প্রত্যাহার করে ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পরে তাঁকে সন্দ্বীপ এবং চলতি বছরের জুনে কোতোয়ালি থানায় দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের সর্বশেষ বদলি আদেশে আবু জায়েদের স্থানান্তরের কারণ উল্লেখ করা হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে এটিকে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হলেও সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে বদলির সিদ্ধান্তের যোগসূত্র দেখছেন।