ভালোবাসার টানে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছিলেন ৩০ বছর বয়সী যুবক লিয়ন। উদ্দেশ্য ছিল প্রিয় মানুষকে বিয়ে করে ঘরে তোলা। তবে প্রেম সফল হলেও শেষ পর্যন্ত বয়সের আইনি বাধায় বিয়ের স্বপ্ন পূরণ হয়নি তার।
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা সিনথিয়া আক্তার তুবা (১৬)-র সঙ্গে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় হয়েছিল লিয়নের। সেই পরিচয় ধীরে ধীরে গড়ায় গভীর সম্পর্কে।
জানা গেছে, ভাষা শেখার একটি অ্যাপে প্রথম যোগাযোগ হয় দুজনের। পরে হোয়াটসঅ্যাপে নিয়মিত কথা বলতে বলতে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তুবার বাড়ির ঠিকানা চান লিয়ন। যদিও তুবা প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি যে চীনের একজন তরুণ সত্যিই বাংলাদেশে চলে আসবেন।
চলতি মাসের ৮ মে চীন থেকে ঢাকায় পৌঁছান লিয়ন। এরপর বৃহস্পতিবার (১৪ মে) তিনি নাজিরপুর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালে তুবার বাবা ও স্বজনরা তাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে বাড়িতে নিয়ে যান।
বিদেশি অতিথিকে দেখতে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে কাঞ্চন হাওলাদারের বাড়িতে ভিড় করেন আশপাশের শত শত মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা মাসুম বলেন, চীন থেকে প্রেমের টানে একজন এসেছে শুনে দেখতে এসেছি।
আরেক বাসিন্দা বাচ্চু হাওলাদার বলেন, মোবাইলের মাধ্যমে পরিচয় হয়ে এত দূর থেকে কেউ চলে এসেছে—বিষয়টি এলাকাজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
তুবার বাবা কাঞ্চন হাওলাদার জানান, কিছুদিন ধরেই লিয়নের সঙ্গে তাদের ফোনে যোগাযোগ ছিল। বাড়িতে আসার পর তাকে বাঙালি খাবার দিয়ে আপ্যায়নও করা হয়েছে। তবে তুবা এখনও অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় বিয়ের কোনো সুযোগ নেই।
ফিরে যাওয়ার আগে লিয়ন বলেন, তুবার প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন। বয়স পূর্ণ না হওয়ায় আপাতত ফিরে যাচ্ছেন। তবে ভবিষ্যতে আবারও আসবেন এবং তুবা রাজি থাকলে তাকে বিয়ে করতে চান।