জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। লিভারজনিত জটিলতায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
শুক্রবার (১৬ মে) তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় কায়সার হামিদ।
গণমাধ্যমকে তিনি জানান, চিকিৎসার অংশ হিসেবে ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের সময় হঠাৎ কারিনার রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। এরপর চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও তাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
পারিবারিক সূত্র জানায়, কয়েকদিন ধরেই শারীরিকভাবে ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন কারিনা। প্রথমদিকে সাধারণ অসুস্থতা মনে হলেও পরে পরীক্ষায় সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরবর্তীতে তিনি হেপাটাইটিস এ-তে আক্রান্ত হন। আগে থেকেই তার ‘ফ্যাটি লিভার’-এর সমস্যা ছিল। সংক্রমণ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে এবং গত শুক্রবার তার লিভার ফেইলিউর হয়।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়।
ভারতের ভেলোরে অবস্থিত খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তার নিবিড় চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকরা ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি লিভার ট্রান্সপ্লান্টের প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সব চিকিৎসা প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কনটেন্ট ও অভিনয়ের মাধ্যমে কারিনা কায়সার তরুণদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। তার প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও সৃজনশীল কাজের কারণে অল্প সময়েই বড় একটি দর্শকগোষ্ঠী তৈরি হয়েছিল।
তার মৃত্যুতে বিনোদন অঙ্গন, সহকর্মী এবং ভক্তদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।