শ্রমিকদের উত্থাপিত দাবিগুলো নিয়ে মজুরি বোর্ডে আলোচনা করে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) থেকে শ্রমিকদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে চলমান সংকট নিরসনে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
আরিফুল হক চৌধুরী জানান, শ্রমিকদের দাবিগুলো সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। মজুরি বোর্ডে এসব বিষয়ে আলোচনা হবে। শ্রমিক সংগঠন ও মালিকপক্ষ সংকট সমাধানে সহযোগিতা করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গাজীপুরে শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় মন্ত্রী বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শ্রম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিহতের পরিবারকে তাৎক্ষণিক এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও সরকার পরিবারটির পাশে থাকবে।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শ্রমিকদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে গাজীপুরের টঙ্গীতে ১০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে অনুমোদিত সারসংক্ষেপ তাঁর কাছে পাঠানো হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের প্রক্রিয়াগত কাজ শুরু হবে বলে জানান শ্রমমন্ত্রী।
চলমান শ্রমিক অসন্তোষ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অল্প সময়ের নোটিশেও শ্রমিক নেতারা আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারাও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় উপস্থিত হয়েছেন। উভয় পক্ষের সহযোগিতায় কারখানাগুলো দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও যেসব শ্রমিক কারাবরণ করেছেন, তাঁদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান মন্ত্রী। তবে ভিডিও ফুটেজে যাঁদের বিরুদ্ধে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মজুরি নির্ধারণের অগ্রগতি তুলে ধরে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, শনিবার রাতে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর রোববার দুপুর ১২টার আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। একই দিন সন্ধ্যায় এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশিত হয়। আগামী চার দিনের মধ্যে বোর্ডের পরবর্তী সভা অনুষ্ঠিত হবে।
শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি এবং মালিকদের শিল্প পরিচালনার সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রাখাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, শিল্পকারখানা সচল থাকলে উৎপাদন ও আয় বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির সুযোগও সৃষ্টি হবে।
দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের মাধ্যমে অথবা লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাতে হবে। যথাযথ সাড়া না পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে আলোচনা ছাড়াই সরাসরি কর্মবিরতি কিংবা অচলাবস্থা সৃষ্টি করা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
বন্ধ ও ছুটি ঘোষণা করা কারখানাগুলো পুনরায় চালু করে উৎপাদন স্বাভাবিক করতে মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি শ্রমিক নেতাদের নিজ নিজ এলাকার কারখানায় গিয়ে শ্রমিকদের কাজে ফেরার জন্য উদ্বুদ্ধ করার অনুরোধ করেন। এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেন মন্ত্রী।
শিল্প খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, কেউ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শ্রমমন্ত্রী বলেন, মজুরি বোর্ডের সুপারিশ মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষ মেনে নেবে বলে তিনি আশাবাদী। বোর্ডে দুই পক্ষেরই প্রতিনিধি রয়েছেন এবং তাঁরা সুপারিশ মেনে নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন।