ময়মনসিংহের ত্রিশালের আউলিয়ানগর কলেজ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পাঁচ শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ছয়জন শিক্ষক থাকার পরও এমন ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী থাকলেও কলেজটিতে নিয়মিত ক্লাস হয় না। অনেক সময় পুরো প্রতিষ্ঠানই তালাবদ্ধ থাকে।
উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নে আউলিয়ানগর রেলওয়ে স্টেশনের পাশে ২০০২ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে এর কার্যক্রম। স্থানীয়দের ভাষ্য, কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী থাকলেও নিয়মিত পাঠদান হয় না।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কলেজের অফিসসহ সব কক্ষ তালাবদ্ধ। প্রায় এক একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে একটি আধাপাকা ভবন এবং পাশে ভাঙাচোরা টিনশেড ঘর। শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চগুলো অগোছালো ও ময়লাযুক্ত। মাঠটি নিচু হওয়ায় বছরের প্রায় পুরো সময়ই সেখানে পানি জমে থাকে।
কলেজের অফিসকক্ষে কাউকে না পেয়ে দরজায় থাকা অধ্যক্ষের মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থান করছেন বলে জানান।
স্থানীয়দের দাবি, কলেজের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে কাগজে-কলমে ৬০ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও নিয়মিত ক্লাসে কেউ আসে না। শিক্ষার্থীরা এলেও দুপুরের আগেই চলে যায়। অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনিও শিক্ষকদের অনুপস্থিতি ও নিয়মিত পাঠদানের সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেন।
আউলিয়ানগর কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আশরাফুল আলম জানান, বর্তমানে কলেজে ৭২ জন শিক্ষার্থী ও ছয়জন শিক্ষক রয়েছেন। তবে পাঁচজন শিক্ষক নিয়মিত আসেন না। তাঁদের ফোন করে কলেজে আনতে হয়। দীর্ঘদিন চাকরি করেও এমপিওভুক্তির আশায় থাকা এসব শিক্ষক বেতন না পাওয়ায় কলেজে আসতে অনাগ্রহী।
তিনি আরও বলেন, কলেজ পরিচালনার জন্য ১৪ জন শিক্ষক প্রয়োজন। বর্তমানে রয়েছেন ছয়জন। এনটিআরসির মাধ্যমে আটজন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলেও নিয়মিত বেতন না পাওয়ায় তাঁরা চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন।
এইচএসসিতে পাঁচ পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হওয়ার কারণ হিসেবে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা, অবকাঠামোগত সংকট ও শিক্ষার্থী ভর্তির পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেন অধ্যক্ষ। গ্রামাঞ্চলে অল্প বয়সে মেয়েদের বাল্যবিবাহের কারণেও শিক্ষার্থীসংখ্যা কমছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
একই ইউনিয়নের এমপিওভুক্ত ধলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ফলাফলও হতাশাজনক। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে ১৭ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক রয়েছেন পাঁচজন।
কলেজটির অধ্যক্ষ আরিফা নাসরিন বলেন, গত বছর পাসের হার ছিল ৫০ শতাংশ। এ বছর ফলাফল এত খারাপ হওয়ার কারণ তিনি নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না। তাঁর ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের অনেকে গফরগাঁও কিংবা ময়মনসিংহ শহরের বিভিন্ন কলেজে ভর্তি হয়। ফলে নিজ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। বাল্যবিবাহের কারণেও অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে না।
দুটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ও আউলিয়ানগর কলেজের অবকাঠামোগত অবস্থা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত পাঠদান না হলে শিক্ষার পরিবেশ কীভাবে ফিরবে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম বলেন, আউলিয়ানগর কলেজটি এমপিওভুক্ত নয়, তবে ধলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ এমপিওভুক্ত। এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা তদারকির দায়িত্ব তাঁদের দপ্তরের নয়। তথ্য চাওয়া হলে তাঁরা শুধু তথ্য দিতে পারেন।