চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নিরাপত্তা নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। চার দিনব্যাপী এ নিরীক্ষায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থায় গুরুতর কোনো পর্যবেক্ষণ পায়নি সংস্থাটির চার সদস্যের দল। নিরীক্ষা শেষে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দলের প্রধান ক্যালাম ভাইন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে নিরীক্ষা কার্যক্রম শেষ হয়। এর আগে গত ১ নভেম্বর আইকাওর ইউনিভার্সাল সিকিউরিটি অডিট প্রোগ্রাম—কন্টিনিউয়াস মনিটরিং অ্যাপ্রোচের (ইউএসএপি-সিএমএ) আওতায় এ কার্যক্রম শুরু হয়।
নিরীক্ষা দলের অন্য সদস্যরা হলেন আলেসান্দ্রা জোহানা অ্যারেনাস, শেখ আবদুল্লাহ বিন আব সুকর ও পিএ জয়কণ্ঠ।
নিরীক্ষার অংশ হিসেবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা করেন তাঁরা। পাশাপাশি হোল্ড ব্যাগেজ ও কেবিন ব্যাগেজ স্ক্যানিং মেশিন, এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেকশন সিস্টেম (ইটিডিএস), ওয়াক-থ্রু মেটাল ডিটেক্টর এবং হ্যান্ডহেল্ড মেটাল ডিটেক্টরের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়।
এসব যন্ত্রের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, ক্যালিব্রেশন ও যাচাইপ্রক্রিয়াও পর্যালোচনা করেন নিরীক্ষকেরা। যন্ত্রপাতি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের সনদও যাচাই করা হয়।
এ ছাড়া বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীরা নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন কি না, তা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। রানওয়ে ও কার্গো টার্মিনালের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা পাস নীতিমালা অনুযায়ী যাত্রী ও দর্শনার্থীদের প্রবেশাধিকারও যাচাই করা হয়।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো. নুর হোসেন বলেন, নিরীক্ষা শেষে দলের প্রধান ক্যালাম ভাইন বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং গুরুতর কোনো পর্যবেক্ষণ নেই বলে জানিয়েছেন।
তবে নিরীক্ষার বিস্তারিত সুপারিশ সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) সদর দপ্তরে জমা দেওয়া হবে। সেখানে অন্যান্য পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আশা করছে, প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক এই নিরাপত্তা নিরীক্ষায় ভালো ফল অর্জনের মাধ্যমে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করতে পারবে।