শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলতে পারে বলে মনে করছে সরকার। এমন প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, সাধারণত পাঁচ বছর পরপর পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পর্যালোচনা করা হয়। ২০২৩ সালে সর্বশেষ মজুরি পুনর্নির্ধারণের পর ২০২৬ সালে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের নির্ধারিত সময় ছিল না। তবে জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার আগেভাগেই মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে এবং তাঁদের জীবন কঠিন হয়ে উঠেছে—সরকার বিষয়টি উপলব্ধি করছে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল হয়েই আগাম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাই আন্দোলনের মূল দাবির বিষয়টি সমাধানের পথে এগোনোর কথা।
তবে শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা ও নাশকতার অভিযোগ তুলে জাহেদ উর রহমান বলেন, কিছু মানুষের আচরণ প্রকৃত পোশাকশ্রমিকদের আচরণ বলে মনে হয় না। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সক্ষমতা না থাকলেও দলটির হাতে থাকা অর্থ ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তের ওপারের সংশ্লিষ্টতার কথা বলেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পথ তৈরি করতে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি শুধু ডিসেম্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শেখ হাসিনা যত দিন জীবিত থাকবেন, তত দিন এ ধরনের চেষ্টা চলতে পারে বলে সরকার মনে করছে। এসব প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হবে।
এ প্রসঙ্গে ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম দিনে শেখ হাসিনার দেওয়া একটি বক্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ওই সময় নির্বাচনে পরাজয়ের পর শেখ হাসিনা সরকারকে এক দিনও শান্তিতে থাকতে না দেওয়ার কথা বলেছিলেন বলে দাবি করেন জাহেদ উর রহমান। তাঁর মতে, সেই মানসিকতার প্রতিফলন এখনো থাকতে পারে।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে নিজের আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ডিসেম্বর শেষ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আবার কথা বলবেন। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে এবং তাঁর আগের ব্যাখ্যা ভুল প্রমাণিত হলে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করবেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে বহিরাগত, কিশোর ও তরুণদের অংশগ্রহণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার আগের মতো দমন-পীড়নের পথে যেতে চায় না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আইন মেনে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় আনুপাতিক হারে বল প্রয়োগ করতে হবে।
উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের পুলিশ আর শেখ হাসিনার আমলের পুলিশের মতো হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বল প্রয়োগের আইনি অধিকার থাকলেও তা আইন ও আনুপাতিকতার সীমার মধ্যে থাকতে হবে। অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণের সময় সাধারণ মানুষের ভয়ভীতি ও ক্ষয়ক্ষতি যতটা সম্ভব কম রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
শ্রমিকদের আন্দোলন দ্রুত শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, শুরুতে শ্রমিকদের কিছু ন্যায্য দাবি ছিল। সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করায় শ্রমিকদের বিষয়টি বোঝানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শ্রমিকেরা আন্দোলন থেকে সরে এলে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অন্য কারও পক্ষে অস্থিরতা সৃষ্টি করাও কঠিন হবে।