আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে ময়মনসিংহ ও শেরপুরের সীমান্তবর্তী পাঁচ উপজেলায় নিরাপত্তা জোরদার করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ২৫টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও দুই প্লাটুন সদস্য রিজার্ভ রাখা হবে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে উদ্যাপন নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দায়িত্বপূর্ণ এলাকার পূজামণ্ডপগুলো পরিদর্শন ও রেকি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে বিজিবি।
নিরাপত্তাব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন ও মূল্যায়ন করেন ময়মনসিংহ সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, পিএসসি এবং ৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ, এসজিপি, পিএসসি। এ সময় পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা পর্যালোচনার পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সমন্বিত করতে ‘সুরক্ষা অ্যাপস’ ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে বিজিবি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সদস্যদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। অ্যাপটির মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রমের সমন্বয়, দায়িত্ব পালনের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
দুর্গাপূজা চলাকালে পূজামণ্ডপের পাশাপাশি আশপাশের এলাকাতেও নিয়মিত টহল, সতর্ক নজরদারি ও প্রয়োজনীয় তল্লাশি চালানো হবে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে বিজিবি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সীমান্তের প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিবেশ ও নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ৩৯ বিজিবির সদস্যরা দিনরাত দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিটি বর্ডার আউটপোস্টের (বিওপি) আওতায় গড়ে পাঁচ থেকে আট কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন, নিয়মিত তল্লাশি, টহল ও নিবিড় নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে।
৩৯ বিজিবি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি মাদকদ্রব্য, চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশসহ সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে তাদের কার্যক্রম চলবে। দুর্গাপূজা নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত রয়েছে ব্যাটালিয়নটি।