নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেঙ্গুরা ইউনিয়নে কাউবাড়ী নদীর ওপর নির্মিত দুটি বাঁশের সেতু উদ্বোধন করেছে খুদে শিক্ষার্থীরা। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের উদ্যোগে সেতু দুটি নির্মাণ করা হয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে আপাতত ১৩টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে ইউনিয়নের রাধানগর ও জিগাতলা এলাকায় সেতু দুটির উদ্বোধন করা হয়। রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সেতু দুটি উদ্বোধন করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাধানগর এলাকার বাঁশের সেতুটির দৈর্ঘ্য ১০২ ফুট ও প্রস্থ ৫ ফুট। অন্যদিকে জিগাতলার সেতুটির দৈর্ঘ্য ১০৭ ফুট এবং প্রস্থ ৫ ফুট। প্রতিদিন ১৩টি গ্রামের বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী এই পথ দিয়ে চলাচল করে।
এদিকে, স্থায়ী সেতু নির্মাণের চেষ্টা চলছে জানিয়ে বুধবার নিজের ফেসবুক পেজে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল লেখেন, লেঙ্গুরাবাসীর কাছে তাঁরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত এলাকাবাসীর সুবিধার্থে বিকল্প হিসেবে অস্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
লেঙ্গুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, কাউবাড়ী নদীর কারণে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্কদের চলাচলে সমস্যা ছিল বেশি। স্থানীয়দের ভোগান্তি বিবেচনায় ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে আপাতত বাঁশের সেতু দুটি নির্মাণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
লেঙ্গুরা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোফাজ্জল হোসেন মিলন বলেন, সেতু দুটি নির্মাণের ফলে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ হবে। তবে এটি সাময়িক ব্যবস্থা। কাউবাড়ী নদীর ওপর স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণ এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি।
সেতু উদ্বোধনের আনন্দের পাশাপাশি স্থায়ী পাকা সেতুর দাবিও জানিয়েছে খুদে শিক্ষার্থীরা। তাদের ভাষ্য, বর্ষাকালে নদী পারাপারে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বাঁশের সেতুতে চলাচল কিছুটা সহজ হলেও নিরাপদ ও টেকসই যোগাযোগের জন্য পাকা সেতু প্রয়োজন।
রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, তাঁর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাঁশের সেতু দুটি উদ্বোধন করেছে। এতে তারা আনন্দিত। তবে শিক্ষার্থীসহ এলাকার মানুষের নিরাপদ চলাচলের জন্য সেখানে পাকা সেতু নির্মাণ জরুরি।