সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের পোষা ছাগল চুরির ঘটনায় মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি দাবি করেছেন, চুরি হওয়া ছাগল দুটিরই খাওয়া উচিত ছিল।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দেওয়া বক্তব্যে পাটওয়ারী বলেন, আসিফ নজরুলের একটি ছাগল খাওয়া হয়েছে, তবে দুটিই খাওয়া উচিত ছিল। একটি না খাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের ধিক্কারও জানান তিনি।
পাটওয়ারীর ভাষ্য, আসিফ নজরুল ভালো মানুষ নন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে তিনি গরু, ছাগল ও মুরগি পালন শুরু করেছিলেন এবং সেগুলোর জন্য পুলিশের নিরাপত্তাও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
ছাগল খাওয়ার ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের উদ্দেশে পাটওয়ারী বলেন, সুযোগ পেলে আরেকটি ছাগলও খাওয়া উচিত ছিল। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্যকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে এবং এর জন্য তার কোনো দোষ নেই।
এর আগে ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ টকশোতে নিজের মেয়ের পোষা ছাগল চুরির ঘটনা নিয়ে কথা বলেন আসিফ নজরুল। ঘটনাটিকে নিজের জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
আসিফ নজরুল জানান, হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে একা থাকার সময় সাড়ে ৯ বছর বয়সী ছোট মেয়ের সঙ্গী হিসেবে ছাগলটি কিনে দেওয়া হয়েছিল। পরে ছাগলটির সঙ্গে শিশুটির গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন মেয়ের স্কুলে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকত ছাগলটি। স্কুল থেকে ফেরার পর তার সঙ্গে খেলত। এমনকি মেয়েটি নিজের ফোনের ওয়ালপেপারেও মায়ের ছবির পরিবর্তে ছাগলটির সঙ্গে তোলা ছবি ব্যবহার করত।
ছাগলটি চুরি যাওয়ার পর মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে বলে জানান আসিফ নজরুল। কাঁদতে কাঁদতে বমি করা এবং টানা দেড় দিন খাবার না খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার কথাও বলেন তিনি।
আসিফ নজরুলের দাবি, ঘটনাটিকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবে প্রচার করা হলেও ছাগলটি মূলত মজা করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে একটি শিশুর পোষা প্রাণী চুরি করে খেয়ে ফেলার ঘটনাকে তিনি নির্মম ও অমানবিক বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রনেতাদের রাজনৈতিক বিরোধ বা প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ছাগলটি চুরি করে খাওয়ার যে কথা বলা হয়েছে, তা সঠিক নয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শেষ দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা থাকাকালে হেয়ার রোডের সরকারি বাংলো থেকে আসিফ নজরুলের ছোট মেয়ের পোষা ছাগল উধাও হওয়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছিল।