চট্টগ্রামের আলোচিত জঙ্গল-সলিমপুর এলাকায় সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দুটি পুলিশ একাডেমি স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। তিনি বলেন, বর্তমানে এলাকাটিতে অস্থায়ীভাবে দুটি পুলিশ ক্যাম্প পরিচালিত হচ্ছে এবং যৌথ বাহিনীর অভিযানে সেখানে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার বলেন, একসময় জঙ্গল-সলিমপুরকে ‘দেশের ভেতর আরেক দেশ’ বলে মনে হতো। তবে সাম্প্রতিক অভিযানের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি সেখানে দৃশ্যমান হয়েছে এবং পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
তিনি জানান, কোনো একটি পক্ষকে সরানোর পর যেন অন্য কোনো গোষ্ঠী সেখানে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সে বিষয়েও প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এলাকাটিতে দুটি পুলিশ একাডেমি নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে।
মতবিনিময় সভায় পুলিশের জবাবদিহিতা ও সেবার মান নিয়েও কথা বলেন এসপি মাসুদ আলম। তিনি বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর পুলিশ বাহিনী বড় ধরনের চাপের মধ্যে পড়ে। সদস্যদের মনোবল পুনর্গঠনে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো পুলিশ সদস্য অভিযোগ গ্রহণে অবহেলা করলে বা দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করলে তার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বিশেষ করে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, আনোয়ারা ও বাঁশখালী এলাকায় অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং চাঁদাবাজি বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন এসপি। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
রাউজানের পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মাসুদ আলম বলেন, এলাকাটি পাহাড়ি ও দুর্গম হওয়ায় সেখানে পরিকল্পিতভাবে অভিযান পরিচালনা করতে হবে। যথাযথ কৌশল ছাড়া অভিযান চালালে সফলতা পাওয়া কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।