1. najmush71@gmail.com : admin : Najmush Shakeer
  2. munir2002lubnan@gmail.com : Munirul Huq Khan : Munirul Huq Khan
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৪:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ

বাকৃবির দুই আবাসিক হলে চুরি, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) দুটি আবাসিক হলে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে চুরির ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। একই রাতে পৃথক কৌশলে দুটি হলে চুরির ঘটনা ঘটায় ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৬ মে) গভীর রাতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ডি ব্লকের ৪৪০ ও ৪৪১ নম্বর কক্ষে চুরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, জানালার স্টিলের শিক কেটে কক্ষে ঢুকে চোরেরা মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও নগদ অর্থ নিয়ে যায়।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে কৃষিকন্যা হলের খ ব্লকের ১৩ নম্বর কক্ষেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। সেখানে সিলিং ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করে নগদ প্রায় চার হাজার টাকা, আইডি কার্ড ও দুটি ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

এক শিক্ষার্থী জানান, রিডিং রুম থেকে ফিরে তিনি কক্ষের দরজা ভেতর থেকে আটকানো দেখতে পান। পরে জানালা দিয়ে তাকিয়ে একজনকে দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে সে দ্রুত সিলিংয়ের দিক দিয়ে পালিয়ে যায়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঈদের ছুটিতে অনেক শিক্ষার্থী বাড়িতে চলে যাওয়ায় হলগুলো তুলনামূলক ফাঁকা ছিল। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংঘবদ্ধ চোরচক্র এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা প্রশ্ন তুলেছেন, চারদিকে বাউন্ডারি ওয়াল থাকার পরও কীভাবে চোর চারতলায় উঠে জানালার শিক কেটে কক্ষে প্রবেশ করলো। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে আবাসিক হলগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থী মেজবাউল হক মিজু বলেন, “চারতলায় উঠে জানালার শিক কেটে চুরি হওয়ার ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে উন্নতমানের সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং নিরাপত্তাকর্মীদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, কৃষিকন্যা হলেও সম্প্রতি একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। সিনিয়র অনেক শিক্ষার্থী চাকরির পরীক্ষার কারণে বাইরে থাকায় ফাঁকা কক্ষগুলোকে টার্গেট করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কৃষিকন্যা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, হলের নির্মাণকাজ চলমান থাকায় জনবল সংকট রয়েছে। ঘটনাটি পরিকল্পিত হতে পারে অথবা সুযোগ বুঝে কোনো নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্লা জানান, ঘটনাটি তদন্তে ইতোমধ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিরাপত্তাকর্মীদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কাউন্সিলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা শাখা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে। তবে বিশাল ক্যাম্পাসে জনবল সংকটের সুযোগ নিয়ে চোরেরা আড়াল থাকা অংশগুলোকে টার্গেট করছে।

এদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. কাজী ফরহাদ কাদির বলেন, হলগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। প্রভোস্ট, প্রক্টোরিয়াল বডি ও নিরাপত্তা শাখার সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ ধরনের ঘটনা ঠেকানো কঠিন হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৩ আঙ্গর টিভি