রাজধানীর মিরপুরে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকালেও মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকায় জড়ো হয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন শ্রমিকেরা। এ সময় পুলিশ ধাওয়া দিলে তাঁরা ছত্রভঙ্গ হয়ে নিজ নিজ কারখানায় ফিরে যান।
মিরপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসার রোজিনা খাতুন শ্রমিকদের সড়কে নামার চেষ্টার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সকাল থেকেই পুলিশ সদস্যরা মাঠে রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) মিরপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। প্রথমে কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ আন্দোলন রোববার প্রকাশ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ওই দিন শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধে বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে যানবাহন ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা আবারও সড়কে নামার চেষ্টা করেন। তাঁরা মিছিল নিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের দিকে এগোতে চাইলে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া পুলিশ সদস্যরা বাধা দেন। শ্রমিকেরা বাধা অতিক্রমের চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের ধাওয়া দেয়।
একই সময়ে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকা থেকেও শ্রমিকদের আরেকটি দল জড়ো হওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশের তৎপরতায় তাদের সেই উদ্যোগও ব্যর্থ হয়। পরে শ্রমিকেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে কারখানার ভেতরে ফিরে যান।
মিরপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসারের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার থেকে শুরু হওয়া শ্রমিক অসন্তোষের জেরে সোমবার সকালেও শ্রমিকেরা সড়কে নামার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দিলে তাঁরা কারখানায় ফিরে যান। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে গত দুই দিনের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের পাশাপাশি মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ এবং ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে হামলার ঘটনার পর মিরপুর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মিরপুরের ১০, ১১, ১২ ও ১৪ নম্বর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।