ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নির্ধারিত বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই আটক হয়েছেন আলোচিত ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে হরিয়ানার গুরুগ্রামে নিজের বাসা থেকে তাঁকে আটক করে দিল্লি পুলিশ বলে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
নিউজ১৮ ও হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর সেন্ট্রাল পার্ক বিহারে ধ্রুব রাঠির পারিবারিক বাসায় সকাল ৭টা ৪৮ মিনিটে প্রবেশ করেন পুলিশ সদস্যরা। তাঁর মা দরজা খুলে দিলে তাঁরা বাড়ির ভেতরে ঢোকেন। এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে বাসাটির বাইরে প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য অবস্থান নিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকে দিল্লির জন্তর মন্তরে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিতে সেখানে যাওয়ার কথা ছিল ধ্রুব রাঠির। শনিবার (১০ অক্টোবর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং গণপরিবহনে বিধিনিষেধ আরোপের সমালোচনা করেছিলেন ধ্রুব রাঠি। শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেন, বিক্ষোভ ঠেকাতে কেন্দ্রীয় সরকার রাজধানীতে কার্যত অবরুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
ভিডিওতে রাঠি বলেন, দিল্লিতে এসে তিনি ৫০টির বেশি মেট্রো স্টেশন বন্ধ দেখতে পেয়েছেন। ট্রেন ও বাস চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মতে, বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীতে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, যেন পুরো শহর অবরুদ্ধ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজেপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মসূচিতে খুব বেশি মানুষ অংশ নেবেন না বলে প্রচার করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন রাঠি। তাঁর প্রশ্ন, বিক্ষোভে লোকসমাগম কম হওয়ার কথা বলা হলে এত কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রয়োজন কেন?
ধ্রুব রাঠির ভাষ্য, সরকার বিক্ষোভ নিয়ে উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষকে জন্তর মন্তরের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তবে তাঁকে আটক করার বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা আটকের নির্দিষ্ট আইনি কারণ সম্পর্কে সরবরাহ করা প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য নেই।