চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি করেছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান ইসা কাজিম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) চুক্তি সম্পাদনের লেনদেনসংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছে।
এর আগে দীর্ঘদিন এনসিটি পরিচালনা করছিল স্থানীয় প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড। গত বছরের ৬ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। পরদিন বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাই ডক এনসিটির পরিচালনার দায়িত্ব নেয়।
এনসিটির জন্য আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালে। পরে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় আন্তর্জাতিক বেসরকারি অপারেটর নিয়োগের বিষয়ে ২০২৩ সালের মার্চে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগত অনুমোদন দেয়।
পরবর্তী সময়ে উদ্যোগটি পুনরায় সক্রিয় করে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে অপারেটর হিসেবে বাছাই করা হয়। তবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এনসিটির দায়িত্ব দেওয়ার বিরোধিতা এবং চলতি বছরের শুরুতে শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে প্রক্রিয়াটি একপর্যায়ে স্থবির হয়ে পড়ে। পরে বর্তমান সরকার নতুন করে আলোচনা শুরু করে চুক্তি সম্পন্ন করে।
প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে রয়েছে পাঁচটি জেটি। চট্টগ্রাম বন্দরের মোট ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই এই টার্মিনালে রয়েছে। বন্দরের মোট কনটেইনার ওঠানামার ৪০ শতাংশের বেশি এনসিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
এদিকে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার বিরোধিতা করে আসছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি। এ নিয়ে সংগঠনটি বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির ফলে জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম এবং কনটেইনারের ডুয়েল টাইম কমতে পারে। এতে আমদানি-রপ্তানিকারকদের লজিস্টিকস ব্যয় কমার পাশাপাশি তৈরি পোশাক, কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত পণ্য ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন খাত উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।