দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দীর্ঘ প্রায় দুই বছর দায়িত্ব পালনের পর আগামী জুন মাস থেকে পর্যায়ক্রমে ব্যারাকে ফিরছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। একইসঙ্গে উপকূলীয় অঞ্চলে দায়িত্ব পালনরত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যদেরও প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত ‘কোর কমিটি’র বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৬ জুন থেকে ধাপে ধাপে সেনাসদস্যদের প্রত্যাহার শুরু হবে। প্রথম পর্যায়ে দূরবর্তী জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলো থেকে সেনা সদস্যদের ফিরিয়ে আনা হবে। জুন মাসের মধ্যেই মাঠপর্যায়ে মোতায়েন সব সেনাসদস্যকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ১৫ থেকে ১৭ হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলে নৌবাহিনীর সদস্যরাও মোতায়েন রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন সরকার ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনীকে মাঠে নামায়। পরে ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে সৃষ্ট অস্থির পরিস্থিতিতে সেনা ও নৌবাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশেষ করে সে সময় পুলিশের কার্যক্রম ব্যাহত হলে সেনাবাহিনী জনগণের আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে অপরাধ দমন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে বাহিনীগুলো।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের পাশাপাশি চাঁদাবাজি প্রতিরোধ, পুলিশের পোশাক পরিবর্তন এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।