1. najmush71@gmail.com : admin : Najmush Shakeer
  2. munir2002lubnan@gmail.com : Munirul Huq Khan : Munirul Huq Khan
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
ব্রহ্মপুত্র খনন ও দখল-বালু বাণিজ্যের প্রতিবাদে ময়মনসিংহে মানববন্ধন জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ সাতকানিয়ায় পুকুরে বাস পড়ে নিহত ২, আহত অন্তত ৩০ খাগড়াছড়িতে আগুনে পুড়ল বিআরটিসির বাস, নাশকতার সন্দেহ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা কোস্টগার্ডের পাঁচ জাহাজের নাম পরিবর্তন, বাদ গেল ‘জয় বাংলা’ ও জাতীয় চার নেতার নাম ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ত্রিশালে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কৃষক লীগ নেতা গ্রেপ্তার গোপালগঞ্জ জেলা স্কুলে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান, ৯ শিক্ষার্থীকে টিসি মুক্তিপ্রাপ্ত ২৪ সিনেমার ১৯টিই ফ্লপ, পরীমনির সফলতা পাঁচটিতে

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহে বদলে যায় রাজনীতির গতিপথ
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬

আজ ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সংঘটিত অভ্যুত্থানের পর পাল্টা প্রতিরোধে অংশ নেন সেনাসদস্যরা। তাঁদের সঙ্গে রাজপথে নেমে আসেন সাধারণ মানুষ। ওই ঘটনাপ্রবাহে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান খালেদ মোশাররফ তাঁর অনুসারী সেনাসদস্যদের নিয়ে অভ্যুত্থান ঘটান। এ সময় সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বাসায় গৃহবন্দি করা হয়।

খালেদ মোশাররফ নিজেকে সেনাপ্রধান ঘোষণা করেন। ৬ নভেম্বর বঙ্গভবনে গিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদকে গ্রেপ্তার, মন্ত্রিসভা বাতিল ও জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন। পরে প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ওই রাতেই সেনাবাহিনীর সাধারণ সিপাহিরা সংগঠিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাঁদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে সাধারণ মানুষও রাজপথে নেমে আসেন। সিপাহি-জনতার এই পাল্টা অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান মুক্ত হন। অভ্যুত্থান প্রতিরোধের সময় ৭ নভেম্বর সকালে খালেদ মোশাররফ তাঁর কয়েকজন অনুসারীসহ নিহত হন। এরপর জিয়াউর রহমান দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের পর দেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পরবর্তী সময়ে বহুদলীয় রাজনীতির পথ উন্মুক্ত হয়। এরপর থেকে বিএনপি দিনটিকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।

বিএনপি সরকারের আমলে ৭ নভেম্বর সরকারি ছুটি ছিল। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দীর্ঘদিন দলটি দিবসটি প্রকাশ্যে বড় পরিসরে উদযাপন করতে পারেনি। এবার দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর ক্ষমতায় থেকে দিবসটি পালন করছে বিএনপি। এ উপলক্ষে দল ও অঙ্গসংগঠনগুলো সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যা ৫ নভেম্বর শুরু হয়ে চলবে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত।

ঢাকায় বিএনপির র‍্যালি, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

দিবসটি উপলক্ষে আজ শনিবার বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হবে। র‍্যালির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল শুক্রবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী জানান, র‍্যালিটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে দিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে। দেশের অধিকাংশ জেলা ও মহানগরেও একই দিনে র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছে।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী ও দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা।

বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও পৃথক কর্মসূচি পালন করছে। এর মধ্যে শ্রমিক দলের ৫ নভেম্বর আলোচনা সভা, যুবদলের ১০ নভেম্বর আলোচনা সভা, কৃষক দলের ৯ নভেম্বর বেলা ১১টায় আলোচনা সভা এবং একই দিন বিকেল ৩টায় জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে।

এ ছাড়া ছাত্রদল ৭ নভেম্বর বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং ৮ নভেম্বর আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। ওলামা দল এতিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করবে। ৮ নভেম্বর সারা দেশের থানা ও উপজেলা পর্যায়েও র‍্যালি করবে বিএনপি।

রাষ্ট্রপতির বাণী

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের সব নাগরিককে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সেনাসদস্য ও দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতি, বৈষম্য ও ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটাতে হবে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা ও গণতন্ত্রচর্চাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাণীতে তিনি আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের ধারাবাহিকতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বাক্‌স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেন।

গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী

দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে এবং সেনাবাহিনীর গৌরব ক্ষুণ্ন করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বরের দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার বিপ্লবে তাদের পরাজয় ঘটে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই দিন সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। দেশের ইতিহাসে দিনটি শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দিবসটি উপলক্ষে জাতীয়ভাবে গৃহীত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৩ আঙ্গর টিভি