লিফট সচল থাকা সত্ত্বেও হাতকড়া পরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে ছয়তলায় আদালতকক্ষে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এ ঘটনায় আদালতের কাছে মানবিক বিবেচনায় হাতকড়া সামনে দেওয়ার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালত-৪-এ মোহাম্মদপুরের ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যা মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি ছিল। বিচারক রবিউল আলম শুনানি পিছিয়ে আগামী ২৬ অক্টোবর নতুন দিন ধার্য করেন।
শুনানির সময় পলক আদালতকে বলেন, লিফট চালু দেখার পরও তাকে হাতকড়া পেছনে দিয়ে সিঁড়ি বেয়ে ছয়তলায় উঠানো হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে মানবিক দৃষ্টিতে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
জবাবে বিচারক বলেন, এটি আসামিদের নিরাপত্তার জন্য করা হচ্ছে। পলক বলেন, হাতকড়া সামনে রাখার বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এবং এভাবে রাখলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পলক। তিনি বলেন, ‘লিফট শুধু আমাদের জন্য নষ্ট থাকে।’ আদালত থেকে নামার সময়ও তাকে সিঁড়ি ব্যবহার করতে দেখা যায়। এ সময় তার আইনজীবীরাও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী বেলাল হোসেন জানান, মামলার দুই আসামি সাজ্জাদ হোসেন ও নাইমুল হাসান রাসেলকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের শুনানির কারণে আদালতে হাজির করতে পারেনি কারা কর্তৃপক্ষ। এ কারণে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য নতুন তারিখ দেওয়া হয়েছে।
এদিন পলকসহ আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলায় মোট ৩৪ আসামির মধ্যে ১০ জন কারাগারে আটক রয়েছেন এবং ২০ জন শুরু থেকেই পলাতক বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন ট্রাকচালক মো. হোসেন। ওই দিন গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাড়ি ফেরার পথে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের মা রীনা বেগম ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানসহ আরও অনেকে।