ঝড়ের পর একযোগে অচল হয়ে পড়ে কুমিল্লার বিস্তীর্ণ এলাকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। জেলার ১৭টি উপজেলায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় হাজারো মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষাও এই বিপর্যয়ের প্রভাব থেকে রেহাই পায়নি। অনেক কেন্দ্রে বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার্থীরা চার্জার লাইট ও মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ো হাওয়ায় ৩৫টি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে গেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে খুঁটি উপড়ে পড়া, তার ছিঁড়ে যাওয়া এবং মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিশেষ করে জেলার দক্ষিণাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ সূত্র জানায়, আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, লালমাই, চৌদ্দগ্রাম, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় গত দুই দিনে ৭১টি খুঁটি ভেঙে পড়ে। এছাড়া ১০২৫টি স্থানে লাইনের ওপর গাছ পড়ে, ৭৩৮টি জায়গায় তার ছিঁড়ে যায় এবং ৫৫০টি মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অন্তত ২৭ হাজার গ্রাহক সংযোগ হারান।
সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার দিলীপ চন্দ্র চৌধুরী জানান, রোববারের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই মঙ্গলবারের ঝড়ে নতুন করে বিপর্যয় নেমে এসেছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে টানা কাজ চলছে।
অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর আওতাধীন চান্দিনা, দেবিদ্বার, মুরাদনগর ও বরুড়া উপজেলায়ও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। পরে বিকেলে জাতীয় গ্রিডের মূল সংযোগ মেরামত করা হয়।
বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি জানান, ভবানীপুর ও এগারোগ্রাম এলাকায় গাছ ভেঙে পড়ায় দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ না থাকলেও দ্রুত পুনঃসংযোগের কাজ চলছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কুমিল্লায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পুরো জেলাজুড়ে ভোগান্তি ও উদ্বেগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।