শিশুদের সারা বছর খেলাধুলার সুযোগ করে দিতে নিজেদের অর্থে খেলার মাঠের জন্য জমি কিনেছিলেন টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর গ্রামের বাসিন্দারা। এবার তাঁদের সেই উদ্যোগে পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। মাঠের বাকি জমি কিনতে ৪ কোটি ৪১ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৮ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, বাবুপুরে খেলার মাঠের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী জমি কেনার অর্থ দেবে সরকার।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে বাবুপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও দেলদুয়ারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তাঁদের সরকারি সহায়তার সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামে খেলার মাঠের জন্য ইতিমধ্যে ৫৯ শতাংশ জমি কিনেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জমির মালিক আরও ১ শতাংশ জমি দান করেছেন। সব মিলিয়ে বর্তমানে মাঠের জন্য জমি রয়েছে ৬০ শতাংশ। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাঠটি গড়ে তুলতে মোট ১৮০ শতাংশ জমি প্রয়োজন। বাকি ১২০ শতাংশ জমি কিনতে সরকার অর্থায়ন করবে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাকি জমি কেনার জন্য ৪ কোটি ৪১ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৮ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, খেলার মাঠের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ডেকে সরকারি সহায়তার বিষয়টি জানানো হয়েছে। বাকি জমি কেনার অর্থ সরকার দেবে।
এর আগে গত ৩০ অক্টোবর বাবুপুর গ্রামের বাসিন্দাদের উদ্যোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তখন উদ্যোক্তারা জানিয়েছিলেন, আরও জমি কিনে মাঠটি বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। সরকারি সহায়তার সিদ্ধান্তে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হলো।
মাঠ তৈরির অন্যতম উদ্যোক্তা খোরশেদ আলম বলেন, গ্রামবাসী নিজেদের অর্থে মাঠের জন্য জমি কিনেছেন। এখন ওই জমিসহ মোট ১৮০ শতাংশ জায়গায় সরকার মাঠ তৈরি করে দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, তাঁদের উদ্যোগে সরকার এভাবে পাশে দাঁড়াবে এবং এত বড় মাঠ তৈরির পরিকল্পনা করবে, তা তাঁরা ভাবেননি। এ সিদ্ধান্তে পুরো গ্রামের মানুষ আনন্দিত এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ।