একটি অটোরিকশায় চারজনের বেশি যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। পাশাপাশি প্রতিটি ই-রিকশায় কিউআর কোডযুক্ত নম্বরপ্লেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ই-রিকশার নিবন্ধন ও পরিচালনা-সংক্রান্ত নতুন নীতিমালার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, একটি পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধন করা যাবে। অর্থাৎ একজন ব্যক্তি পাঁচটির বেশি অটোরিকশার মালিক হতে পারবেন না।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, চারজন যাত্রী পরিবহনে সক্ষম রিকশার নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার টাকা। প্রতিবছর নিবন্ধন নবায়ন করে সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত এসব রিকশা চালানো যাবে। প্রতিটি রিকশার জন্য নির্ধারিত থাকবে গতিসীমাও।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচলের জন্য চারটি করে মোট আটটি অঞ্চল গঠন করা হবে। প্রতিটি অঞ্চলের ই-রিকশার রং হবে আলাদা। কোন অঞ্চলে কতটি রিকশা চলবে, তা সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ আলোচনা করে নির্ধারণ করবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপাতত ই-রিকশা নিবন্ধনের সংখ্যায় কোনো সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। তবে নিবন্ধন পেতে বর্তমানে চলাচলকারী রিকশাগুলোকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পরিবর্তন করতে হবে। চলাচলের অঞ্চল, সড়ক, রং ও রিকশার সংখ্যা চূড়ান্ত করবে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ।
তিনি আরও জানান, এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো যাবে না।
ই-রিকশাচালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিধান থাকলেও তা এখনই কার্যকর করা হচ্ছে না। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক চালককে লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া সামাল দিতে সিটি করপোরেশনগুলোর সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, প্রথমে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করা হবে। প্রক্রিয়াটি কিছুটা এগিয়ে গেলে আলাদা প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে চালকদের লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে। আপাতত রিকশার মালিকেরা চালকদের পরিচয়পত্র দেবেন।