শেরপুরের শ্রীবরদীতে সেতুর নিচ থেকে প্লাস্টিকের ড্রামে উদ্ধার হওয়া নারীর পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের কথা জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিহত নারীর নাম ঝিনুক আক্তার (২৬)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি।
নিহত ঝিনুক আক্তার গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন। তিনি এরশাদনগরের শাকিল মিয়ার মেয়ে।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনীয়া সেতুর নিচ থেকে একটি প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতরে রাখা নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় তদন্ত শুরু করে পিবিআই শেরপুর।
তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, গত ২১ অক্টোবর ঝিনুককে ঢাকায় এনে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয়। কাজ শেষে তাকে ১ হাজার ২০০ টাকা দেওয়া হলে তিনি আরও টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পরে বটি দিয়ে কোপানোর পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে ঝিনুককে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।
হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে শেরপুরের শ্রীবরদীতে নিয়ে প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে ফেলে রাখা হয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. নূর ইসলাম ওরফে বাবু (৪৪), মো. সজল (৪৪), মো. নূর মোহাম্মদ ওরফে গোসা ওরফে বুশা (৪৪) এবং মাহবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমা (৪৪)। নূর ইসলামকে পঞ্চগড়ের বোদা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি তিনজনকে রাজধানীর উত্তরখান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে নূর ইসলাম ওরফে বাবু আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই শেরপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড ছিল। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম ও তদন্ত চলমান রয়েছে।