সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ, নীতি পর্যালোচনা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিরোধী দল চাইলে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করতে পারে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) ৩১তম ব্যাচের নবীনবরণ ও শরৎ উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, ছায়া মন্ত্রিসভার মাধ্যমে বিরোধী দল সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। পাশাপাশি সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প নীতি এবং কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারবে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ছায়া মন্ত্রিসভায় সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে বিরোধী দলের একজন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা থাকতে পারেন। তাঁরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করবেন। উদাহরণ হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা বাজেট ও অর্থনৈতিক নীতি পর্যালোচনা করতে পারেন। একইভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্রসহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কাজ বিশ্লেষণ করে সংসদে প্রশ্ন তোলা এবং বিকল্প প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
কায়সার কামালের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সরকারের জবাবদিহিতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চাকে আরও কার্যকর করতে পারে।
রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, সংসদকে সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে হবে। শুধু রাজনৈতিক সংস্কার যথেষ্ট নয়; আমলাতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারও জরুরি। এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন না এলে দেশ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না।
১৯৯১ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ওই সময় সংসদীয় গণতন্ত্রের সূচনা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তবে এরপরও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে ওঠেনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এর অন্যতম কারণ ছিল প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ঘাটতি, যার ফলে একপর্যায়ে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, কেবল সরকারের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের কার্যক্রম আরও দক্ষ করতে আমলাতন্ত্রের সংস্কার, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য হ্রাস এবং পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে।
সংসদে সরকারি ও বিরোধী—উভয় পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংসদের কার্যকর ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক হোসনে আরা বেগম সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর।