সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ৬১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ৯ হাজার ২৬৯ জন যাত্রী। গত শনিবার থেকে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোর পর্যন্ত বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ২২টি সরাসরি এবং ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ২টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ৪টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৭টি রয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ১৬টি, এমিরেটসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৫টি, সালামএয়ারের ৩টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এসব ফ্লাইটে বিভিন্ন দেশ হয়ে রিয়াদে যাওয়ার কথা ছিল যাত্রীদের। সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ঢাকা থেকেও তাঁদের পরিবহন করা হয়নি।
হামলার পর বন্ধ রিয়াদ বিমানবন্দর
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার হুথিদের হামলার পর রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়। গত এক সপ্তাহে বিমানবন্দরটিতে অন্তত পাঁচবার হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবারের এক হামলায় এক পাইলটসহ সৌদি আরবের তিন নাগরিক নিহত হন। ওই দিন বিমানবন্দরের অবকাঠামোর পাশাপাশি সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ওই হামলাতেই পাইলটের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রায় দুই মাস ধরে সংঘাত
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় দুই মাস ধরে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে। এ সংঘাতে রিয়াদ বিমানবন্দরকে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে হুথিরা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার করে কোনো বিমান সংস্থা উড়োজাহাজ পরিচালনা করলে কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিল হুথিরা।
ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় রিয়াদগামী যাত্রীদের যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে।