1. najmush71@gmail.com : admin : Najmush Shakeer
  2. munir2002lubnan@gmail.com : Munirul Huq Khan : Munirul Huq Khan
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় ব্যবস্থা নেবে সরকার নিরাপত্তাশঙ্কায় কারাগারে রেখেই জিয়াউল আহসানের বিচার রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ, ঢাকা থেকে বাতিল ৬১ ফ্লাইট; ভোগান্তিতে ৯ হাজারের বেশি যাত্রী ‘ইরানে সম্ভবত আমরা বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি’: ট্রাম্প ২১ ঘণ্টা ধরে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ চুয়েটের উপাচার্য, অসুস্থ দুজন নাসিরনগরে এমপির ছেলে, ভগ্নিপতি ও ভাগিনার স্ত্রী পেলেন সারের ডিলারশিপ দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সারা দেশে মোতায়েন থাকবে প্রায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য সচিবালয়ে এমপিদের সঙ্গে প্রবেশ করতে পারবেন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও চালক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে ১ হাজার ৪৪ ভরি সোনা, রুপা ১ হাজার ৮৮ ভরি সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে

আজ তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা
নিরাপত্তাশঙ্কায় কারাগারে রেখেই জিয়াউল আহসানের বিচার

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

নিরাপত্তাঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে কারাগারে রেখেই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারকাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থেকে তিনি কারাগারে বসেই ভার্চুয়ালি বিচার কার্যক্রমে অংশ নেবেন।

সোমবার প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম এ তথ্য জানান। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শতাধিক গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা এ মামলায় মঙ্গলবার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের জেরা হওয়ার কথা রয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসানের পক্ষে তাঁর আইনজীবীরা জেরায় অংশ নেবেন।

নিরাপত্তা নিয়ে আসামির আবেদন

প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম জানান, আগের শুনানিতে জিয়াউল আহসান নিজের জীবননাশের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে একটি আবেদন করেছিলেন। কারাগার থেকে তাঁকে যে প্রিজন ভ্যানে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়, সেটির পরিবর্তে অন্য আসামিদের সঙ্গে একই প্রিজন ভ্যানে আনার আবেদন জানান তিনি।

প্রসিকিউশনও তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি স্বীকার করেছে। তবে অন্য আসামিদের সঙ্গে একই প্রিজন ভ্যানে নেওয়ার আবেদনে আপত্তি জানানো হয়। প্রসিকিউটরের ভাষ্য, নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হলে ওই গাড়িতে থাকা অন্য বন্দিদের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে আনার পরিবর্তে কারাগারে রেখেই ভার্চুয়ালি হাজির করার প্রস্তাব দেয় প্রসিকিউশন। পরে ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।

তামীম বলেন, কারাগার ও ট্রাইব্যুনালে ভার্চুয়াল শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় অডিও-ভিজ্যুয়াল ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে জিয়াউল আহসান বিচারকের বক্তব্য, দুই পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনতে পারবেন এবং নিজের বক্তব্যও তুলে ধরতে পারবেন।

করোনাকালে ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনার নজির উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রচলিত আইন ও ট্রাইব্যুনাল আইনের বিধান অনুসরণ করেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তার জেরা আজ

গত ৮ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের জবানবন্দি গ্রহণ শেষ হয়। তৃতীয় দিনের সাক্ষ্যে তিনি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পর সেগুলোকে বৈধতা দিতে লোকদেখানো প্রশাসনিক তদন্ত পরিচালনা এবং প্রকৃত মৃত্যুর কারণ আড়াল করতে ভুল ময়নাতদন্ত ও পুলিশ প্রতিবেদন তৈরির অভিযোগ উঠে আসে।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে এসব তদন্ত ব্যবহার করা হতো। আজ মামলার ১৫তম সাক্ষী রফিকুল ইসলামকে জেরা করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছিল।

এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর মামলার ১৪তম সাক্ষী কামরুল ইসলামের জবানবন্দি নেওয়া হয়। একই দিনে মামলার ১৩তম সাক্ষী র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাব্বির রহমানের জেরা শেষ হয়। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, সাব্বির রহমান ছিলেন মামলার সর্বশেষ চাক্ষুষ সাক্ষী।

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিন অভিযোগ

প্রসিকিউশন জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ এনেছে।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুরের সদর থানার পুবাইলে সড়কের পাশে জিয়াউল আহসানের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী খালসংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার কথা বলা হয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগেও একই সময়ে তথাকথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে আরও ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হত্যাকাণ্ড বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত হয়। এ অভিযোগে মাসুদসহ ৫০ জনের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নেন। একই দিন তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে ২৩ ডিসেম্বর তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৩ আঙ্গর টিভি