1. najmush71@gmail.com : admin : Najmush Shakeer
  2. munir2002lubnan@gmail.com : Munirul Huq Khan : Munirul Huq Khan
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
নাসিরনগরে এমপির ছেলে, ভগ্নিপতি ও ভাগিনার স্ত্রী পেলেন সারের ডিলারশিপ দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সারা দেশে মোতায়েন থাকবে প্রায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য সচিবালয়ে এমপিদের সঙ্গে প্রবেশ করতে পারবেন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও চালক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে ১ হাজার ৪৪ ভরি সোনা, রুপা ১ হাজার ৮৮ ভরি সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে তাজমিন হত্যা মামলায় কক্সবাজার থেকে আটক রাজু কুমিল্লা ডিবির হেফাজতে ‘বিধবা কার্ড দিলে এমপির বউ সবার আগে নেবে’: হাসনাত আবদুল্লাহ সম্পত্তির ভাগ নিয়ে বিরোধ, গাইবান্ধায় ৫ ঘণ্টা আটকে রইল বাবার জানাজা ধর্মীয় পরিচয় নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতি ও শুক্রবার সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা

নাসিরনগরে এমপির ছেলে, ভগ্নিপতি ও ভাগিনার স্ত্রী পেলেন সারের ডিলারশিপ

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সারের নতুন ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ হান্নানের ছেলে, ভগ্নিপতি এবং ভাগিনার স্ত্রীর নাম থাকায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি অর্থের বিনিময়ে ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংসদ সদস্য।

গত শুক্রবার নাসিরনগর উপজেলায় নতুন সারের ডিলারদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। ১৩টি ইউনিয়নের জন্য ১৩ জনকে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে সমালোচনা করছেন। তাঁদের অভিযোগ, দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে সংসদ সদস্যের আত্মীয়স্বজনসহ বিতর্কিত ব্যক্তিদের ডিলার করা হয়েছে।

এমপির তিন আত্মীয়ের নাম তালিকায়

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় ও প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, গোকর্ণ ইউনিয়নে মোহাম্মদ আদনান সাদী, সদর ইউনিয়নে আরক মিয়া এবং গোয়ালনগর ইউনিয়নে নুরুন্নাহার আক্তার সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতার ভাষ্য, আদনান সাদী সংসদ সদস্য এম এ হান্নানের ছেলে, আরক মিয়া তাঁর আপন ভগ্নিপতি এবং নুরুন্নাহার আক্তার তাঁর ভাগিনা শরীফুল ইসলামের স্ত্রী।

বিএনপির একাধিক সূত্রের দাবি, শরীফুল ইসলাম গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা থেকে স্ত্রীর নামে ডিলারশিপ নিয়েছেন। নুরুন্নাহারের বাবা সাদেক মিয়া চাতলপাড় ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ শাখার সাধারণ সম্পাদক বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এ ছাড়া স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, বুড়িশ্বর ইউনিয়নে নিয়োগ পাওয়া জসিম মিয়া আগে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক ওরফে দানার মিয়ার ভাগিনা। কুন্ডা ইউনিয়নের ডিলার রেনু মিয়া স্থানীয় যুবদল সভাপতি অনু মিয়ার ভাই। আগে অনু মিয়ার ডিলারশিপ ছিল, যা বাতিল করা হয়েছিল বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

ফান্দাউক ইউনিয়নের ডিলার শারমীন আক্তার যুবদল সভাপতি ফয়েজ আনসারির স্ত্রী। স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, তাঁদের কেউই সার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নন। অন্যদিকে, চাতলপাড় ইউনিয়নের ডিলার শামীমা আক্তারের স্বামী আলমগীর হোসেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামানের পক্ষে কাজ করার কারণে তাঁকে বহিষ্কার করা হয় বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

টাকার লেনদেনের অভিযোগ, অস্বীকার এমপির

ডিলার নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা ছাত্রদলের দুই নেতা ও উপজেলা বিএনপির দুই নেতা জানান, টাকার বিনিময়ে ডিলার নিয়োগের কথা তাঁরা শুনেছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সংসদ সদস্য এম এ হান্নান অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, সরকারি আইন ও নিয়ম মেনেই তাঁর ছেলে, ভগ্নিপতি ও ভাগিনার স্ত্রী ডিলারশিপ পেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট তিন ইউনিয়নে তাঁদের মতে যোগ্য অন্য কেউ আবেদন করেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

অর্থের বিনিময়ে ডিলার নিয়োগের অভিযোগকে গুজব উল্লেখ করে এম এ হান্নান বলেন, এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।

নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে কৃষি বিভাগের বক্তব্য

নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন জানান, আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই করে একটি তালিকা জেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছিল। পরে সেখান থেকে কীভাবে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তা তাঁর জানা নেই।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা এমরান বলেন, তিনি সরকারি চাকরি করেন এবং সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন কমিটির উপদেষ্টা। এর বাইরে তিনি মন্তব্য করতে চাননি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সারের ডিলার হতে ২৫ টন ধারণক্ষমতার গুদাম থাকার শর্ত রয়েছে। গুদামের নির্ধারিত দৈর্ঘ্য ২০ ফুট, প্রস্থ ১৫ ফুট ও উচ্চতা ১০ ফুট হতে হয়। তবে নাসিরনগরে নিয়োগ পাওয়া অনেক ডিলারের এমন সক্ষমতার গুদাম নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১০১টি ইউনিয়ন ও পাঁচটি পৌরসভার ১০৬টি ডিলারশিপের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন ৮২৫ জন। তাঁদের মধ্য থেকে ২৯২ জনের আবেদন সুপারিশ করে সার ডিলারসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে পাঠানো হয়। প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিতে তিনজনের নাম সুপারিশ করে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি।

উপজেলা বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে প্রথম আলো জানিয়েছে, তাঁদের অভিযোগ—দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কেউই নতুন ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাননি। সংসদ সদস্যের আত্মীয়দের নিয়োগের বিষয়টিকে তাঁরা স্বজনপ্রীতি হিসেবে দেখছেন।

তবে নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি কিংবা অর্থ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো কোনো তদন্তের ফলাফল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৩ আঙ্গর টিভি