গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভারতের সঙ্গে নতুন চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। একই সঙ্গে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
গঙ্গা চুক্তি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান ৩০ বছরের চুক্তির মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। এর আগেই নতুন চুক্তি করতে চায় বাংলাদেশ। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতীয় পক্ষ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রাধিকার ১৯৭৭ সালের চুক্তিতে থাকা ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ পুনর্বহাল করা বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭৭ সালে পাঁচ বছরের জন্য করা চুক্তিতে এই ধারা ছিল। পরে ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে তা রাখা হয়নি।
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, প্রকল্পটির কাজ দৃশ্যমান করার জন্য একনেকে অনুমোদন পাওয়া গেছে। আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চের যেকোনো এক সময়ে প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান হবে বলে আশা করছেন তারা।
মন্ত্রী পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বড় প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের বড় একটি জনগোষ্ঠী এর সুফল পাবে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে তিনি জানান, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ দ্রুত শুরু করতে চায় সরকার। এ জন্য বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে এবং কারিগরি সহায়তা নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।
ফিজিবিলিটি স্টাডির ফলাফলের ভিত্তিতে তিস্তা প্রকল্পের মূল কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইসহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে একই বছরে মূল প্রকল্পের কাজ শুরু করার দিকে সরকারের নজর রয়েছে।
পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো বহিরাগত চাপ বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, এসব নদীর তীরবর্তী মানুষের স্বার্থই সরকারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মানুষের কল্যাণকে সামনে রেখেই প্রকল্পগুলোর কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, পদ্মা ব্যারাজের স্টাডি সম্পন্ন করতে ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সময় লেগেছিল। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কয়েক মাসের মধ্যেই এটি চূড়ান্ত করে কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তিস্তার মতো বড় প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা এক-দুই মাসে শেষ করা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।