পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে মানুষের দোরগোড়ায় নিতে নতুন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। এর আওতায় মাঠপর্যায়ের প্রচারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও পরিবার পরিকল্পনা-সংক্রান্ত পরামর্শ ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, আগামী ১ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত দেশব্যাপী এক বছরব্যাপী এ কর্মসূচি চলবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় র্যালি, মেলা ও সচেতনতামূলক আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি পরিবার পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ‘দু’টির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালানো হবে। তবে কার্যক্রমটি শুধু প্রচার-প্রচারণায় সীমিত থাকবে না; মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী ও পরামর্শও পৌঁছে দেওয়া হবে।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কর্মসূচির বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি। দেশের বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে আলাদা কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে মানুষ পরিবার পরিকল্পনায় আরও সচেতন ও আগ্রহী হন।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের ক্যানসার চিকিৎসা নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ক্যানসার রোগীর সংখ্যা বাড়ছে এবং দরিদ্র মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট ও নষ্ট যন্ত্রের কারণে অনেক রোগী প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন কেনা হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে ছয়টি এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ১১টি মেশিন স্থাপন করা হবে। প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও জনবল তৈরির প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ক্যানসারের মতো জটিল রোগে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেলে অনেক রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব। অর্থের সংকট ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে দরিদ্র মানুষের ভোগান্তি কমাতে সরকার কাজ করছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক থাকার কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুসরণ করে দেশে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ডেঙ্গুর ধরন পরিবর্তনের পাশাপাশি রোগটির পরবর্তী সময়ে কার্ডিয়াক জটিলতা বাড়ায় চিকিৎসকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মশা নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।