দেশে আইন থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তার যথাযথ প্রয়োগ হয় না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অপরাধের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক সময় ব্যবস্থা নেয় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে ‘শিশুশ্রম নিরসনে করণীয়’ শীর্ষক এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডেপুটি স্পিকার।
তিনি বলেন, আইনের প্রয়োগের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা অনেক সময় আপস করে ফেলেন। রাজনৈতিক নেতা বা মন্ত্রীদের জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জনগণের করের অর্থে যাদের বেতন দেওয়া হয়, তাদের কর্মকাণ্ডের কার্যকর তদারকি ও সমালোচনাও জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
৫ আগস্টের পর নতুন বাংলাদেশ গড়তে শিশুশ্রম বন্ধ ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান কায়সার কামাল। একই সঙ্গে নিজের বাসায় ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে গৃহকর্মী হিসেবে না রাখার জন্য উপস্থিত সবাইকে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই অভ্যুত্থানে শিশুদের প্রাণহানির প্রসঙ্গ তুলে ডেপুটি স্পিকার বলেন, জাতিসংঘের হিসাবে ওই সময়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের ১২ থেকে ১৩ শতাংশ শিশু। সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশ হওয়ায় বিভিন্ন সংকটে শিশুরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শিশু ধর্ষণের মতো ঘটনা সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে এসব ঘটনা প্রতিরোধে গণসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি শিশুদের সুরক্ষায় সরকারি হেল্পলাইন ‘১০৩৮’ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর পথশিশুদের নিয়ে নেওয়া মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন ডেপুটি স্পিকার। পথশিশুদেরও সুন্দর জীবনের অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে এসব মানবিক উদ্যোগকে রাজনৈতিকভাবে না দেখার আহ্বান জানান তিনি।
সংলাপে শিশুদের কল্যাণে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন কায়সার কামাল। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমান শিশুদের কল্যাণে শাহবাগে শিশুপার্ক প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। পরে ১৯৯৪ সালের ৫ মে খালেদা জিয়া মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন এবং অবৈতনিক শিক্ষা চালুর উদ্যোগ নেন।
অনুষ্ঠানে এনজিও প্রতিনিধি, রাজনৈতিক কর্মী ও সাংবাদিকদের শিশু অধিকার রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা এখনো রয়েছে। এ জন্য নিজ নিজ জায়গা থেকে শিশুদের সুরক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
শিশু অধিকার লঙ্ঘন ও যেকোনো অনিয়মের ঘটনা দ্রুত তুলে ধরতে সাংবাদিকদের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।
সংলাপে আইএলও প্রতিনিধি, বিভিন্ন এনজিও কর্মকর্তা, মানবাধিকারকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।