সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহ দিতে রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসভবনের ছাদে স্থাপিত সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের ১ হাজার ইউনিট নিজে ব্যবহার করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই উৎস থেকে আরও ১ হাজার ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সমবায় ভবনে আয়োজিত ‘সৌরবিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন’ কর্মসূচি পর্যালোচনা সভায় এ তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।
সভায় দেশের সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ডিডি (এলজি) অংশ নেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত তিন দিনে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের মাধ্যমে একটি উদাহরণ তৈরি হয়েছে।
সরকারি বিভিন্ন ভবনের ছাদ কাজে লাগিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনার কথাও জানান মীর শাহে আলম। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সমবায় ভবনসহ জাতীয় ভবনগুলোর ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরকারকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড হিসেবেও দেখার কথা বলেন তিনি।
সভায় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে ইউএনওদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে ইউএনওদের সর্বাত্মকভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মীর শাহে আলম।
এ সময় ইউএনওদের জন্য ঐচ্ছিক তহবিলের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। তার বক্তব্য, স্থানীয় পর্যায়ে দরিদ্র মানুষের জরুরি সহায়তার জন্য এ ধরনের তহবিল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া সম্ভব হতে পারে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অর্থের ব্যবস্থা করতে না পারলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব আয় থেকে বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যুতের নেট মিটারিং পদ্ধতি নিয়ে সমাধানে যাওয়ার কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী।
মাঠপর্যায়ে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইউএনওদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন কার্ড ও খাল খননসহ বিভিন্ন প্রকল্প তাদের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রতিবছর ইউএনওদের সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে উপজেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন দাবির বিষয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় বিএনপি সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কর্মকাণ্ড নিয়েও বক্তব্য দেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, সরকার জনগণের সরকার এবং নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের অনিয়মপূর্ণ নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে নির্দেশ দেবে না।
এ ছাড়া মিরপুরের সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক কমিটি বাতিল এবং একজন সংসদ সদস্যকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই ঘটনায় সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত দায় সরকার নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী নদী ও পুকুরের পানি পরিশোধনের মাধ্যমে সরবরাহ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। এতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।