নেত্রকোণার মদন উপজেলার আলোচিত শিশু ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষককে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১০ মে) বিকেলে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহসিনা ইসলামের আদালতে তাকে হাজির করা হলে বিচারক জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট জিআরও সূত্রে জানা গেছে, জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র আইনজীবী মো. হেলাল উদ্দীনের মৃত্যুতে আইনজীবীরা কর্মবিরতি পালন করায় আদালতে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। এ কারণে আসামিকে উন্মুক্ত আদালতে তোলা হয়নি। একই সঙ্গে আগামী ২১ মে তাকে পুনরায় আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, তদন্তের স্বার্থে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হলেও আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। সেই সময় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়।
তিনি আরও বলেন, ডিএনএ সংগ্রহের প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হয়নি। এটি সময়সাপেক্ষ আইনি প্রক্রিয়া হলেও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রিমান্ডে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আখতারুজ্জামান অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ ছাড়া ভিকটিম ইতোমধ্যে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে, যেখানে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত সপ্তাহে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে র্যাব-১৪ অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে গত ৭ মে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার একটি মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পরে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে এবং এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।