সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী পরিচয় ব্যবহার করে এক ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে নাটোরের লালপুরের এক তরুণের বিরুদ্ধে। পরে কথিত ওই নারীর বাবা পরিচয়ে নিজের বাবাকে সামনে এনে প্রবাসীর কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এ ঘটনায় বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে লালপুর উপজেলার গন্ডবিল গ্রামে অভিযান চালিয়ে বাবা ও ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ। আটকরা হলেন মো. শান্ত আলী (২০) ও তার বাবা মো. শহিদুল ইসলাম (৩৮)।
পুলিশ জানায়, শান্ত আলী ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমোর মতো যোগাযোগমাধ্যমে ‘সুমাইয়া আক্তার’ নামে একটি পরিচয় তৈরি করেন। ওই পরিচয়ে নিজেকে তরুণী হিসেবে উপস্থাপন করে বাংলাদেশি এক ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু করেন।
একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং বিয়ের সম্পর্ক হয়েছে বলেও ওই প্রবাসীকে বিশ্বাস করানো হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
এরপর কথিত ‘সুমাইয়া আক্তার’-এর বাবা হিসেবে নিজের বাবা শহিদুল ইসলামকে ওই প্রবাসীর সঙ্গে কথা বলানো হয়। বাবা-ছেলে মিলে নিজেদের পরিচয় ও পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওই প্রবাসীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে মোট কত টাকা নেওয়া হয়েছে এবং কী কী অজুহাতে অর্থ আদায় করা হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
প্রতারণার অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার সকালে লালপুর থানার এসআই এজে মিন্টুর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গন্ডবিল গ্রামে অভিযান চালায়। শান্ত আলীর বাড়ির টিনশেড ভবনের উত্তরমুখী একটি কক্ষ থেকে তাকে ও তার বাবা শহিদুল ইসলামকে আটক করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এসব ডিভাইস এবং সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল যোগাযোগের তথ্য যাচাই করে প্রতারণার পরিধি ও অর্থ লেনদেনের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ।
লালপুর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় শান্ত আলী ও শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।