1. najmush71@gmail.com : admin : Najmush Shakeer
  2. munir2002lubnan@gmail.com : Munirul Huq Khan : Munirul Huq Khan
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
ধর্ষণচেষ্টার মিথ্যা মামলা, বাদী ও সাক্ষী স্বামীকে ৩ বছরের কারাদণ্ড মেয়ে সেজে ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে প্রেম-বিয়ে, টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাবা-ছেলে আটক ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে বিধবার টিপসই, পরে বিয়ের কাবিননামা তৈরির অভিযোগ ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও পরামর্শ পৌঁছে দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী চলতি বছরই এয়ারবাসের অন্তত একটি উড়োজাহাজ চায় বাংলাদেশ: বিমানমন্ত্রী গাজী নজরুলের জামিন নামঞ্জুর, ‘বিরূপ প্রতিক্রিয়ার’ কথা বললেন বিচারক আঞ্চলিক পর্যায়ে বেতার বিতর্ক প্রতিযোগিতা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ: তথ্য প্রতিমন্ত্রী ওসি রাকিবুলের ভাইরাল অডিও তারই কণ্ঠের, তথ্য পাচার নিয়ে তদন্ত চলছে: ডিবিপ্রধান একনেকে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন নান্দাইলে হত্যা মামলায় ৩ জনের ফাঁসি, ১০ জনের যাবজ্জীবন

ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে বিধবার টিপসই, পরে বিয়ের কাবিননামা তৈরির অভিযোগ

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে নেওয়া হয়েছিল টিপসই। পরে সেই টিপসই ব্যবহার করে নিজের নামে বিয়ের কাগজপত্র তৈরি হয়েছে—এমন অভিযোগ করেছেন ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার এক বিধবা নারী। প্রকাশ্যে আসা কাবিননামায় তার সঙ্গে এক প্রতিবেশীর বিয়ে হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মোছাম্মৎ আছিয়া বেগম (৪৩) উপজেলার ২ নম্বর পুটিজানা ইউনিয়নের পাটুলী গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় এক যুগ আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর পাঁচ সন্তানকে নিয়ে তিনি স্বামীর বাড়িতেই বসবাস করছেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ভাষ্য, সন্তানদের কথা বিবেচনা করে স্বামী মারা যাওয়ার পর আর বিয়ে করেননি আছিয়া। কয়েক বছর আগে নিজেই ছেলের বিয়ে দেন। ওই বিয়েতে উকিল ছিলেন প্রতিবেশী আবদুল কদ্দুস (৬৪)। এরপর বিভিন্ন সময় তার বাড়িতে যাতায়াত করতেন কদ্দুস।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, একপর্যায়ে আবদুস সাত্তার নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে আছিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে তিনি এতে সম্মতি দেননি।

অভিযোগ অনুযায়ী, এর কিছুদিন পর ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আছিয়ার কাছ থেকে কৌশলে টিপসই নেওয়া হয়। প্রায় দেড় মাস আগে আবদুস সাত্তার তাকে ফোন করে জানান, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য কয়েকটি কাগজে টিপসই প্রয়োজন। নিরক্ষর আছিয়া তার কথায় সাত্তারের দোকানে গিয়ে কয়েকটি কাগজে টিপসই দেন।

সম্প্রতি আছিয়া বেগম ও আবদুল কদ্দুসের বিয়ের কথা উল্লেখ করা কিছু কাগজপত্র প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর স্থানীয়দের কাছে প্রতিকারের দাবি জানান আছিয়া।

প্রকাশ্যে আসা একটি কাবিননামায় উল্লেখ রয়েছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর উভয়ের সম্মতিতে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধের কথাও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পৌরসভার নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. গোলাম মোস্তফার কার্যালয়ে বিয়েটি সম্পন্ন হয়েছে বলেও কাবিননামায় লেখা রয়েছে।

তবে কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা কয়েকজন জানিয়েছেন, এমন কোনো বিয়ের বিষয়ে তারা অবগত নন। ফলে নথিটির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, কাবিননামায় থাকা তার সিল ও স্বাক্ষর জাল করা হয়ে থাকতে পারে।

স্থানীয় মোশারফ, রফিকসহ কয়েকজনের অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে আবদুস সাত্তার এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সাত্তার সেখানে উপস্থিত হননি বলে তারা জানান। পাশের ইউনিয়নের আব্দুল হেকিম নামের আরও একজন এতে জড়িত থাকতে পারেন বলেও তারা অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযুক্ত আবদুল কদ্দুসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আবদুস সাত্তারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কল করবেন বলে ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আছিয়া বেগম বলেন, তার বড় সন্তান ও নাতনী রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে টিপসই নেওয়ার পর নিজের নামে বিয়ের কাগজপত্র তৈরি হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন। এতে তিনি সামাজিকভাবে বিব্রত ও সম্মানহানির শিকার হয়েছেন। ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের শাস্তি চান তিনি।

ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহীদুল ইসলাম সোহাগ জানান, ভুক্তভোগী নারীকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৩ আঙ্গর টিভি