নিরাপদ বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সমতা, স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর কথা উল্লেখ করে তিনি মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন।
সরকারের সামাজিক কর্মসূচির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের কার্ডকে সমন্বয় করে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি ইউনিভার্সেল কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। শিশুদের জন্য আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইউনিফর্ম, মিড ডে মিলসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষাকে শুধু সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার কথাও বলেন তিনি।
তরুণদের দক্ষ ও যোগ্য করে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া প্রয়োজন। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে প্রকৃত অর্থে জনগণকে সেবা দেয়, এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এখনো প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাকে সরকারের লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এ জন্য আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থায়নের পাশাপাশি সংকটের মূল কারণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তাঁর ভাষ্য, সংকটের সূত্রপাত মিয়ানমারে হওয়ায় এর সমাধানও সেখানেই হতে হবে।
কৃষিকে অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি, সেচ, অর্থায়ন ও বাজারে কৃষকদের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মৎস্য, গবাদিপশু ও গ্রামীণ উদ্যোগে সহায়তা দেওয়ার কথা জানান তিনি। খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানিমুখী শিল্পকে সমন্বিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন।
পানি ব্যবস্থাপনা নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগের কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
পরিবেশ সংরক্ষণে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পে উৎসাহ দেওয়ার কথা জানান। তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের লিড-সার্টিফাইড কারখানাগুলোর প্রসঙ্গও উঠে আসে।
বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের আয়োজন করেছে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)। তিন দিনের এই আন্তর্জাতিক সংলাপে বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তি, গণতন্ত্র, সুশাসন এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সংলাপে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিক, কূটনীতিক, গবেষক, অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নিচ্ছেন।