বাবাকে মারধর করে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসা সেই তুবা আবার বিদ্যালয়ে ফিরেছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজার সঙ্গে বামরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায় সে।
বিদ্যালয়ে পৌঁছালে শিক্ষক ও সহপাঠীরা তুবাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। দীর্ঘদিন পর বন্ধু ও শিক্ষকদের কাছে ফিরে হাসি-খুশি দেখা যায় তাকে। এ সময় ইউএনও শিক্ষকদের পাশাপাশি তুবার সহপাঠীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং শিশুটির স্বাভাবিক পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
ইউএনও মো. আলী সুজা বলেন, সমাজের সব অসংগতি হয়তো একসঙ্গে দূর করা সম্ভব নয়। তবে একটি পরিবারকে সুরক্ষা দিয়ে সমাজে একটি উদাহরণ তৈরি করা সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই তাঁরা কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, তুবাকে তাঁরা সাদরে গ্রহণ করেছেন। বাবার সঙ্গে ঘটে যাওয়া দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার পর থেকে সে বিদ্যালয়ে আসছিল না। তুবা মেধাবী শিক্ষার্থী উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার পড়াশোনা যাতে স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে, সে জন্য বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করা হবে।
এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তুবার বাবাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে বরিশাল নগরের একটি মাদকসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পাঠায় উপজেলা প্রশাসন। সেখানে তাঁকে তিন মাস রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এরও আগে ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে উজিরপুরের একটি বাজারে চুরির অভিযোগে তুবার বাবাকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী মারধর করে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরদিন সকালে খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যায় তাঁর ৯ বছর বয়সী মেয়ে তুবা।
বাবাকে আর মারধর না করার জন্য উপস্থিত লোকজনের কাছে আকুতি জানায় শিশুটি। ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।
ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তার পাশে একটি খুঁটির সঙ্গে ওই ব্যক্তির পা বাঁধা। তাঁর হাতে ছিল একটি চায়ের কাপ। তুবা পাউরুটি ছিঁড়ে চায়ে ভিজিয়ে বাবার মুখে তুলে দিচ্ছিল। চারপাশে থাকা লোকজনের নানা কথার মধ্যেও বাবাকে খাবার খাওয়ানোর সময় শিশুটিকে অসহায়ভাবে সবার দিকে তাকাতে দেখা যায়।