জামালপুরে প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও অপমানের জেরে সংঘটিত এক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পিবিআই। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে শেরপুর জেলার বাগলগড় গুচ্ছগ্রাম এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন জামালপুর পৌর শহরের পাথালিয়া এলাকার উজ্জল মিয়ার ছেলে শুভ এবং তার সহযোগী সম্রাট।
বুধবার (২০ মে) বিকেলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।
তিনি জানান, নিহত আলামিনের তালাকপ্রাপ্ত বোনের সঙ্গে খালাতো ভাই শুভর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা ও বিরোধ চলছিল।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, একপর্যায়ে আলামিন শুভকে তার বোনের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির প্রস্তাব দেন। পরে মোটরসাইকেল গ্যারেজ দেওয়ার জন্য শুভ আলামিনের কাছে এক লাখ টাকা ধার চান। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সুযোগে আলামিন নিজের বোনকে নিয়ে শুভর মাধ্যমে অশোভন প্রস্তাব দেন। এতে শুভ অপমানিত বোধ করেন এবং প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।
পুলিশের ভাষ্যমতে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শুভ তার বন্ধু সম্রাটকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে সঙ্গে থাকতে রাজি করান। এরপর গত ১৩ মে বিকেলে আলামিনকে মোটরসাইকেলে করে শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের নতুন বাগলগড় এলাকায় নেওয়া হয়।
সেখানে গিয়ে শুভ তার পকেটে থাকা চাকু দিয়ে আলামিনের গলা কেটে হত্যা করেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। ঘটনার পর দুজনই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
পিবিআই জানায়, গত ১৮ মে বিকেলে শেরপুর সদর থানার পুলিশ জামালপুরের পাথালিয়া এলাকার একটি বালুচরে ঘাসের জমি থেকে মাথাবিচ্ছিন্ন ও অর্ধগলিত এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহের ট্রাউজার ও জুতা দেখে নিহতকে আলামিন হিসেবে শনাক্ত করেন তার ছেলে।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে শেরপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর পিবিআই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত শুরু করে এবং প্রযুক্তিগত তথ্যের সহায়তায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।