জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুল প্রিমিয়ার লিগের (এনপিএল) ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ঘিরে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বাউন্ডারির সীমানা নিয়ে বিরোধ থেকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে অন্তত ছয় শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাঁদের কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে বিরোধ ছড়িয়ে পড়ে অগ্নিবীণা হল ও কলা ভবন এলাকায়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত আরটিভির প্রতিনিধি আবু তাহেরকে লাঞ্ছিত করা এবং তাঁর মুঠোফোন থেকে ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলার অভিযোগও উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, এনপিএল চলাকালে ক্রিকেট মাঠের বাউন্ডারি নিয়ে টুর্নামেন্টের আয়োজক ও পাশের মাঠে ফুটবল খেলতে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও গালাগাল হয়। খেলা শেষে বিরোধ মীমাংসার জন্য দুই পক্ষ একত্র হলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী শুভকে ২০ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী চড় মারেন। এর জেরে অগ্নিবীণা হল ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সামনে এনপিএল আয়োজক কমিটির সদস্য সিফাত, নাসিমসহ আরেক খেলোয়াড়কে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয়।
এ ঘটনায় ফুটবল খেলতে আসা ইংরেজি এবং লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। পরে ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী ও আয়োজক কমিটির সদস্য সিফাতের নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হলে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ বাধে।
সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত আরটিভির প্রতিনিধি আবু তাহেরের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়, ধারণ করা ভিডিও জোরপূর্বক মুছে ফেলা হয় এবং তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
সংঘর্ষে আহত ইংরেজি, লোকপ্রশাসন ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী রবিউল, সাকিব, রাফি ও রোমানকে প্রথমে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অপর পক্ষের দিদারুল ইসলাম আঘাত পেয়ে ত্রিশাল মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি হন। এ ছাড়া এনপিএল আয়োজক কমিটির সদস্য সিফাতও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর হাসপাতালে আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, প্রক্টরসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, “ক্যাম্পাসে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, যা কখনোই কাম্য নয়। মোট ৬ জন আহত বলে জেনেছি। বিষয়টি নিয়ে পরে কথা বলতে পারব।”
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।