শিক্ষা ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে ‘দেশসেরা গুণী শিক্ষক’ সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাটাগরিতে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. বাহানুর রহমানসহ নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
অধ্যাপক বাহানুর রহমান বর্তমানে বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি নবগঠিত ‘স্কুল অব ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি’র ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের (বিভিসি) সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
জাতীয় পর্যায়ে কোনো ভেটেরিনারিয়ানের এমন সম্মাননা পাওয়ার ক্ষেত্রে অধ্যাপক বাহানুর রহমানের এই স্বীকৃতিকে বিশেষ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্মাননা পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক বাহানুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষণা—এই চারটি বিষয় পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে শিক্ষা ও গবেষণার মান আরও উন্নত করা সম্ভব।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির বিকল্প নেই। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে বিজ্ঞানমনস্ক ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাও শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা শুধু জ্ঞান সৃষ্টি ও বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কৃষি খাতের জ্ঞান ও প্রযুক্তি কৃষকের কাছে পৌঁছে দিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
এবার বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ১০১ জন গুণী শিক্ষককে জাতীয়ভাবে সম্মানিত করেছে সরকার। প্রত্যেককে সম্মাননা হিসেবে দুই লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়েছে।
জাতি গঠন, শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চায় শিক্ষকদের অবদানের স্বীকৃতি দিতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। এর আগে জাতীয় পর্যায়ে ১২ জন শিক্ষককে এমন সম্মাননা দেওয়া হয়েছিল; এবার সেই পরিধি বাড়িয়ে ১০১ জন শিক্ষককে সম্মানিত করা হয়েছে।