বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার অভিযোগকে অনেকটা ‘ট্রেন্ড’ হিসেবে দেখছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তাঁর দাবি, আগের মতো লাগেজ নিয়ে ভোগান্তি এখন আর হচ্ছে না। তবে দু-একটি ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে বিমানবন্দরে ‘এয়ারপোর্ট ফায়ার ইমার্জেন্সি এক্সারসাইজ ২০২৬’ শীর্ষক মহড়া পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় একজন সাংবাদিক অভিযোগ করেন, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর অনেক যাত্রীকে লাগেজের জন্য এক থেকে দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টায় পৌঁছাচ্ছে বলেও যাত্রীরা জানিয়েছেন।
অভিযোগ শুনে মন্ত্রী উপস্থিত বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তার কাছে জানতে চান, আগের দিন এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না। ওই কর্মকর্তা জানান, তাঁদের কাছে এমন কোনো তথ্য নেই।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি সৌদি আরব থেকে আসা একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের কাছ থেকেও লাগেজ পেতে বিলম্বের অভিযোগ পাওয়ার কথা জানান সাংবাদিক।
এর জবাবে বিমানবন্দরের ওই কর্মকর্তা বলেন, এ ধরনের অভিযোগ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে উড়োজাহাজ অবতরণের প্রকৃত সময় এবং যাত্রীর সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পরে সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, তাহলে অভিযোগ করা যাত্রীরা কি মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন?
জবাবে মন্ত্রী বলেন, সব যাত্রী এমন অভিযোগ করেননি। তাঁর ধারণা, লাগেজ নিয়ে অভিযোগ করার বিষয়টি এখন অনেকটা প্রবণতায় পরিণত হয়েছে।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, দুই দিন আগে কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, তাঁদের কেউ ৯ মিনিটে, কেউ ১০ মিনিটে এবং কেউ ১৫ মিনিটে লাগেজ পেয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, বিদেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরেও লাগেজ পেতে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে বাংলাদেশের বিমানবন্দর তুলনামূলক ছোট হওয়ায় যাত্রীরা অবতরণের পরপরই লাগেজ পাওয়ার প্রত্যাশা করেন।
এ পর্যায়ে সাংবাদিক মন্ত্রীকে বিমানবন্দরের দুই নম্বর টার্মিনালে গিয়ে সরাসরি পরিস্থিতি দেখার আহ্বান জানান।
জবাবে মন্ত্রী জানান, যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে সরকার কাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সমস্যাগুলো সমাধান করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিমানবন্দরের কর্মীদের কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তাঁর অভিযোগ, অতীতে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া অনেক কর্মীর মধ্যে কাজে অনীহা তৈরি হয়েছিল। ফলে দায়িত্ব পালনে ঘাটতি দেখা দেয়।
তবে বর্তমানে আগের মতো পরিস্থিতি নেই বলে দাবি করেন মন্ত্রী। সাংবাদিকদের তুলে ধরা ভোগান্তির চিত্রের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে তিনি বলেন, এখন এ ধরনের সমস্যা ব্যাপকভাবে হচ্ছে বলে তাঁর মনে হয় না।
সাংবাদিক পুনরায় লাগেজ পেতে দেরি হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরলে মন্ত্রী জানান, বিচ্ছিন্নভাবে এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তা তাঁর জানা নেই। তবে অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
প্রয়োজনে নিজে টার্মিনালে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী।