চাঁদপুরের মতলব উত্তর থেকে নিখোঁজের প্রায় এক দিন পর বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে ১৩ বছরের রাতুল দেবনাথকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দেওয়া ‘Miss you Ma’ স্ট্যাটাসের সূত্র ধরে অনুসন্ধানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে চাঁদপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল এ তথ্য জানায়।
রাতুল ছেংগারচর বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ চন্দ্র দেবনাথের ছেলে। সে ছেংগারচর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় রাতুল। এরপর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে থানায় জিডি করেন পরিবারের সদস্যরা।
এর কয়েক ঘণ্টা পর সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে রাতুলের ফেসবুক পেজে ‘Miss you Ma’ লেখা একটি পোস্ট দেখতে পান স্বজনরা। বিষয়টি তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে ওই পোস্টকে সূত্র ধরে তার অবস্থান শনাক্তে কাজ শুরু করে পুলিশ।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় শুরু হয় রাতুলকে উদ্ধারের অভিযান। মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীব ও মতলব উত্তর থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে এসআই জীবন চৌধুরী এবং এএসআই রবিউল হোসেনের সমন্বয়ে একটি দল অনুসন্ধান চালায়।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাতুলের সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করার পর বান্দরবান সদর থানার আওতাধীন ১২ মাইল এলাকার দুর্গম পাহাড়ে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। সেখান থেকেই তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাতুলকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
রাতুলের বাবা বিশ্বজিৎ চন্দ্র দেবনাথ জানান, স্কুলে যাওয়ার কথা বলে ছেলে বের হওয়ার পর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অনেক খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে তারা থানায় জিডি করেন। পরে পুলিশের সহায়তায় বান্দরবান থেকে ছেলেকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশকে রাতুল জানিয়েছে, কয়েকবার বাবা-মায়ের কাছে ঘুরতে যাওয়ার কথা বললেও তারা তাকে নিয়ে যাননি। পরে মায়ের এক আত্মীয়ের মাধ্যমে সে বান্দরবানে যায়। ওই আত্মীয় তাকে বিভিন্ন জায়গা ঘুরিয়ে দেখানোর পাশাপাশি ভারতেও নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এ কারণে সে বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রেখেছিল।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানুষের বিপদের সময় দ্রুত সাড়া দেওয়ার লক্ষ্যে জেলা পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।