খুলনার বাগেরহাটে দুটি ট্রাক থেকে সিগারেট উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত মেশিন, কাঁচামাল ও নানা সরঞ্জাম জব্দ করেছে খুলনা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট। জব্দ তালিকায় রয়েছে ১ হাজার ২৭৫ কেজি কাটিং তামাকসহ উৎপাদন ও প্যাকেজিংয়ের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ট্রাক দুটি আটক করা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ দপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আটক যানবাহন দুটির নম্বর—বগুড়া-ট ১১-০৭১৪ ও ঢাকা মেট্রো-ট ১৬-২৬৪০। তল্লাশির পর এগুলো থেকে সিগারেট তৈরির মেশিন, তামাক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাঁচামাল উদ্ধার করা হয়।
জব্দ করা সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে দুটি অংশবিশিষ্ট এক সেট মেকিং মেশিন এবং দুটি অংশের এক সেট প্যাকিং মেশিন। সঙ্গে পাওয়া গেছে ৫০টি প্লাস্টিক ক্যারেট ও একটি জেনারেটর।
তামাকের পরিমাণও ছিল উল্লেখযোগ্য। ৫১টি বস্তায় মোট ১ হাজার ২৭৫ কেজি কাটিং তামাক পাওয়া যায়। প্রতিটি বস্তায় ছিল ২৫ কেজি করে তামাক।
এ ছাড়া অভিযানে ৭৬ রোল সিগারেট পেপার, পাঁচ কার্টন ফিল্টার পেপার, তিন ড্রাম গাম বা আঠা এবং ৫৪ রোল ফয়েল পেপার জব্দ করা হয়েছে।
প্যাকেট তৈরির ছয় বক্স কাগজ, একটি হাওয়ার ট্যাংকি ও ১০০ পিস স্কচটেপও রয়েছে জব্দ করা সামগ্রীর তালিকায়।
ভ্যাট বিভাগ বলছে, উদ্ধার হওয়া উপকরণের মধ্যে সিগারেট উৎপাদনের প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের মেশিন, কাঁচামাল ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম রয়েছে। এ কারণে পুরো জব্দকৃত সরঞ্জামকে মোটামুটি একটি পূর্ণাঙ্গ সিগারেট কারখানার সেটআপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে এসব সরঞ্জাম কোথা থেকে এসেছে, গন্তব্য কোথায় ছিল এবং এর পেছনে কারা জড়িত—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। এগুলো ব্যবহার করে অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদন করা হচ্ছিল কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।
এনবিআর জানিয়েছে, আটক ট্রাক ও জব্দ মালামাল নিয়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের পাশাপাশি আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
দুটি ট্রাকে সিগারেট উৎপাদনের এত বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।