জনপ্রশাসনে নিয়োগ, পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিবেচনা নয়—সততা, মেধা ও দক্ষতাকেই প্রধান মানদণ্ড হিসেবে নির্ধারণের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, প্রশাসনের প্রতিটি পদ রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তাই কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।
রোববার (৩ মে) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সম্মেলনে তিনি মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকার কিংবা প্রশাসনের কোনো পদই স্থায়ী নয়—তাই দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব বজায় রাখা জরুরি। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব মোকাবিলায় প্রশাসনকে কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে, তবে এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ যেন না বাড়ে সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবহারে শৃঙ্খলা আনার অংশ হিসেবে সন্ধ্যা ৭টার পর বিপণিবিতান ও শপিংমলে বিদ্যুৎ ব্যবহারে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে সচিবালয় থেকে হেঁটে সম্মেলনস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পথে সাধারণ মানুষ তাকে স্বাগত জানালে তিনি হাত নেড়ে অভিবাদন গ্রহণ করেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, সম্মেলনের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ডিসিরা পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেবেন।
এবারের সম্মেলনে ৩০টি অধিবেশনে ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবেন মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে সম্মেলনের বাজেটও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এ আয়োজন ঘিরে প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।