দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ। পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আজ মঙ্গলবার ইউরেনিয়াম জ্বালানি স্থাপনের কাজ শুরু হচ্ছে, যা দেশের জ্বালানি খাতে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ‘ফুয়েল লোডিং’ প্রক্রিয়া শুরু মানেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি। এই জ্বালানির মাধ্যমে চুল্লিতে ফিশন প্রক্রিয়ায় তাপ উৎপন্ন হবে, যা থেকে বাষ্প তৈরি হয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, কেন্দ্রটি চালুর আগে একাধিক ধাপে নিরাপত্তা ও কারিগরি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে যেতে সময় লাগতে পারে প্রায় ১০ মাস।
ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের সক্ষমতা বাড়িয়ে ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হলে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। পূর্ণ উৎপাদনে গেলে এই কেন্দ্র থেকে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ থেকে ১২ শতাংশ পূরণ করা যাবে।
রূপপুর প্রকল্পটি দেশের বৃহত্তম মেগা প্রকল্পগুলোর একটি। এর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা। ১৯৬১ সালে উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা কারণে দীর্ঘদিন স্থবির ছিল প্রকল্পটি। পরবর্তীতে স্বাধীনতার পর পুনরায় চালু হয়ে ২০১১ সালে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হয়।
প্রযুক্তিগতভাবে, প্রতিটি জ্বালানি বান্ডিলে ৩১২টি রড থাকে এবং প্রথম ইউনিটে মোট ১৬৩টি বান্ডিল ব্যবহার করা হবে। একবার জ্বালানি স্থাপন করলে প্রায় ১৮ মাস পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
পরিবেশগত দিক থেকেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই কেন্দ্র চালু হলে বছরে প্রায় দুই কোটি টন কার্বন নিঃসরণ কমবে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আজকের অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেবেন বলেও জানা গেছে।