মেয়েদের উচ্চশিক্ষা আরও সহজলভ্য করতে স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থা বিনামূল্যে করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।
তিনি বলেন, অতীতে ধাপে ধাপে মেয়েদের শিক্ষাকে বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। খালেদা জিয়া-র নেতৃত্বে প্রথমে মাধ্যমিক পর্যন্ত, পরে ইন্টারমিডিয়েট পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য শিক্ষা ফ্রি করা হয়। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবার স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত এ সুবিধা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতে শুধু ফ্রি শিক্ষা নয়, মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে। এতে করে মেয়েরা আরও উৎসাহ নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইমাম, খতিব ও ধর্মীয় নেতাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
কৃষি খাত প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সরকার গঠনের পরপরই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যার সুবিধা প্রায় ১২ লাখ কৃষক পাবেন। পাশাপাশি কৃষকদের সহায়তায় ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
বেকারত্ব কমাতে বন্ধ কল-কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি বাড়াতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যাতে দ্রুত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এতে সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, মাছ চাষ ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ক্রীড়া উন্নয়নে নতুন উদ্যোগের কথাও জানিয়ে তিনি বলেন, দেশজুড়ে পেশাদার খেলোয়াড় তৈরির কার্যক্রম শুরু হবে এবং প্রায় ৫০০ খেলোয়াড়কে সম্মাননা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।