একদিকে একমাত্র সন্তানের প্রথম জন্মদিন, অন্যদিকে বাবা সমাহিত—এমন নির্মম বাস্তবতার মধ্য দিয়ে দিন কাটছে কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর পরিবারে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) তার ছেলে অব্বয় বৈরাগীর জন্মদিন হলেও ঘরজুড়ে এখন শোকের আবহ।
ঘটনার মাত্র চার দিন আগে পরিবারটি বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করেছিল। কিন্তু তার আগেই ঘটে যায় এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড, যা এখনো মেনে নিতে পারছেন না তার স্ত্রী উর্মী হীরা।
গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকায় আইরিশ হিল হোটেলের পাশ থেকে বুলেট বৈরাগীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মরদেহ টুঙ্গিপাড়ার বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। ওই রাতেই লাশ সমাহিত করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সন্তানের জন্মদিন উপলক্ষে দুই দিন আগে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন বুলেট বৈরাগী। পথে পরিবারের সঙ্গে শেষবার কথা বলার পর হঠাৎ তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন সকালে মহাসড়কের পাশে তার নিথর দেহ পাওয়া যায়।
নিহতের স্ত্রী উর্মী হীরা জানান, স্বামীর সঙ্গে শেষ কথোপকথনের স্মৃতি এখনো তাজা। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।
নিহতের শাশুড়ি মমতা হীরা বলেন, একমাত্র নাতির জন্মদিন এমন শোকের দিনে পরিণত হবে তা কখনো কল্পনাও করেননি তারা। এ ঘটনাকে দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেও দাবি করেন তিনি।
নিহত বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার ডুমুরিয়া উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার হিসেবে তিনি ঢাকা কাস্টমস কার্যালয়ে যোগ দেন এবং সর্বশেষ কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে কর্মরত ছিলেন। চাকরির প্রয়োজনে তিনি কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
১১ এপ্রিল প্রশিক্ষণের জন্য চট্টগ্রামে যান তিনি। প্রশিক্ষণ শেষে শুক্রবার রাতে কুমিল্লায় ফেরার পথে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের পর থেকেই তার অবস্থান অজানা হয়ে যায়। পরদিন সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ, যেখানে মুখমণ্ডলে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানা গেছে।