রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে ফুটপাতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীমের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার কিশোর আজান আলী শরীফের জামিন চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তার পক্ষে অ্যাডভোকেট মো. আলমগীর হোসেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর আদালতে আবেদনটি করেন। বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদিরের আদালতে এ আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
জামিন আবেদনে দাবি করা হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় আজান আলী শরীফ গাড়িটির চালকের পাশের আসনে বসে ছিল। এতে আরও বলা হয়, নিহত মেহেদী শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন। হর্ন বাজানোর পরও তিনি দ্রুত সরে যেতে না পারায় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে কিশোরটির পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে ৯ লাখ টাকা নগদ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।
তবে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে ভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. আরিফীন ইসলাম আদালতে কিশোরটিকে আটক রাখার আবেদন করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দুর্ঘটনার পরপরই প্রাইভেটকারটির ডান পাশের চালকের দরজা খুলে আজান আলী শরীফ বের হয়ে আসে। তদন্তে দুর্ঘটনার ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত অব্যাহত থাকায় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
এ ঘটনায় নিহত মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম গত ২৩ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেন। মামলায় গাড়িটির চালক হিসেবে ৪৪ বছর বয়সী আকাশ মারককে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আকাশ মারক বেপরোয়া গতিতে প্রাইভেটকার চালিয়ে মেহেদীকে চাপা দেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে মেহেদীর মৃত্যু হয়।