বাবার সম্পত্তির ভাগ নিয়ে বিরোধের জেরে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে নাজির উদ্দিন নামে এক বৃদ্ধের জানাজা পাঁচ ঘণ্টা আটকে থাকার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জানাজা হওয়ার কথা থাকলেও বিকেল ৩টা পর্যন্ত বাড়ির উঠানে পড়ে ছিল তাঁর মরদেহ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাজির উদ্দিন সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বোয়ালীদহ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। পেশায় কৃষক এই বৃদ্ধের এক ছেলে ইদ্রিস আলী (৪৮) ও এক মেয়ে হালিমা বেওয়া (৫০) রয়েছেন। বার্ধক্যজনিত কারণে রোববার বিকেল ৩টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জীবিত অবস্থায় নাজির উদ্দিন তাঁর সম্পত্তি ছেলের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। সোমবার সকালে জানাজার সময় নির্ধারণ করা হলে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাড়িতে জড়ো হন। তবে সম্পত্তির ভাগ নিয়ে বিরোধের কারণে জানাজা আয়োজন বাধাগ্রস্ত হয়।
মেয়ে হালিমা বেওয়ার অভিযোগ, তাঁর বাবা জীবিত থাকতেই কৌশলে জমি লিখে নেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে সম্পত্তির ভাগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। নিজের ভাগের এক বিঘা জমি বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত বাবার জানাজা হতে দেবেন না বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, ছেলে ইদ্রিস আলীর বক্তব্য, তাঁর বাবা স্বেচ্ছায় তাঁকে জমি লিখে দিয়েছেন। ওই সম্পত্তিতে বোনের কোনো ভাগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
জানাজায় অংশ নিতে আসা স্থানীয় লোকজন বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করলেও তাতে সমাধান হয়নি। ফলে মৃত্যুর পরদিন সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত নাজির উদ্দিনের মরদেহ বাড়ির উঠানেই পড়ে ছিল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোছা. রওশন আক্তার জানান, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভোগার পর রোববার বিকেলে নাজির উদ্দিনের মৃত্যু হয়। সোমবার সকালে জানাজার আয়োজন করা হলেও সম্পত্তির ভাগ নিয়ে বিরোধের কারণে তা আটকে যায়।
এ বিষয়ে ধাপেরহাট তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক এস্তেখার হাসান জানান, ঘটনার বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ নিয়ে এক ব্যক্তি তদন্তকেন্দ্রে এসেছিলেন। তাঁকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলেও পরে তিনি আর আসেননি।