1. najmush71@gmail.com : admin : Najmush Shakeer
  2. munir2002lubnan@gmail.com : Munirul Huq Khan : Munirul Huq Khan
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
লং মার্চে বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের সমাধান হবে না: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়েও দেশকে অস্থির করার চেষ্টা করছেন: শফিকুর রহমান র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের বিল সংসদে পাস ‘জরুরি ভিত্তিতে টাকা পাঠান’—এমপিদের নম্বর হ্যাক করে প্রতারণা ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে : হাইকোর্টের রায় ‘অ্যাটর্নি জেনারেল আইনজীবীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন’: সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন ২৯ অক্টোবর ডেঙ্গু চিকিৎসায় সব হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক-সরঞ্জাম: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জালিয়াতির অভিযোগের মধ্যে ডব্লিউএইচওর পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ৪১ ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের নিবন্ধন স্থগিত

লং মার্চে বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের সমাধান হবে না: প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট সমাধানে লং মার্চের মতো কর্মসূচির কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। সংকটকে কেন্দ্র করে জনগণকে উসকানি না দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়।

দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংকটটি হঠাৎ তৈরি হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ না নেওয়া এবং পরবর্তীতে আমদানিনির্ভরতার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর দেশের নির্ভরতা তৈরি হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় তেল-গ্যাস আমদানিতে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়।

এর সঙ্গে দেশের দুটি এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটিতে বৈদ্যুতিক শকের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে সেটি পুরোপুরি বিকল হয়ে যাওয়ায় গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

এই পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলোর লং মার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, গাড়িবহর নিয়ে লং মার্চ করলে যদি গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের সমাধান হতো, তাহলে সরকারই সবার আগে এমন কর্মসূচি আয়োজন করত।

জনগণের দুর্ভোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি না করে সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দলও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জাতীয় সংসদকে দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

সংকট মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট মোকাবিলায় একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলেও আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।

ভবিষ্যতে আমদানিনির্ভরতা কমাতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তারেক রহমান। এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আরও স্বাবলম্বী করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ২০২২ সালে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে অফিসের সময় পরিবর্তন, ব্যাংকের সময় কমানো এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ছুটির মতো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি দাবি করেন, তৎকালীন সরকার বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান করতে পারেনি। বরং এর ফলে রাষ্ট্র ঋণগ্রস্ত ও দেউলিয়া হওয়ার পথে গিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও এলএনজি টার্মিনালের দুর্ঘটনার কারণে তৈরি সংকটকে কেন্দ্র করে উসকানিমূলক পরিস্থিতি তৈরি হলে ২০২৪ সালের আন্দোলনে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আত্মত্যাগ অবমূল্যায়িত হবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

সংসদ ও সরকারের ভূমিকা

অধিবেশনের শুরুতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং দুই বছর আগে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষ হচ্ছে। সময়ের দিক থেকে অধিবেশনটি সংক্ষিপ্ত হলেও দেশের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে উভয় পক্ষ আলোচনা করেছে।

সংসদের প্রতিটি আলোচনা সম্পূর্ণ অর্থবহ ছিল—এমন দাবি না করলেও দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সংসদকেন্দ্রিক করার আগ্রহের কথা জানান তিনি।

সব সংসদ সদস্যের সদিচ্ছার প্রশংসা করে তারেক রহমান বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে উভয় পক্ষ আন্তরিকভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছে।

২০২৪ সালের আন্দোলন পর্যন্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা জীবন দিয়েছেন, আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের স্বপ্ন পূরণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়ে দলটিকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, শিল্পকারখানা, শিক্ষা ও ব্যাংকিংসহ দেশের প্রায় প্রতিটি খাতে দুর্নীতির বড় বোঝা ছিল বলে দাবি করেন তিনি। এসব সমস্যা উত্তরাধিকার হিসেবে পেলেও সরকার এগুলোকে অজুহাত না বানিয়ে পরিকল্পিতভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে বলে সংসদকে জানান প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপির অতীতের উদাহরণ

দেশের সংকট মোকাবিলায় বিএনপির অতীত ভূমিকার উদাহরণও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, তখনই দেশকে সংকট থেকে বের করে এনেছে।

জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সত্তরের দশকের শেষদিকে বাংলাদেশ ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র অপবাদ কাটিয়ে খাদ্যে উদ্বৃত্ত ও রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন।

১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পর ১৯৯১ সালের সরকারের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ওই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষাক্ষেত্রে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করেছিলেন। এর ফলে প্রায় দুই কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার বাইরে যেতে সক্ষম হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বর্তমান সরকার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ ও শান্তিময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৩ আঙ্গর টিভি