জাতীয় সংসদ সদস্যদের মুঠোফোন নম্বর হ্যাক করে পরিচিতজনদের কাছে জরুরি ভিত্তিতে টাকা চাওয়ার মাধ্যমে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। একই সঙ্গে ভয়েস ক্লোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপ হ্যাক এবং স্বাক্ষর জাল করেও প্রতারণার ঘটনা ঘটছে বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেওয়ার সময় সংসদ সদস্যদের এ বিষয়ে সতর্ক করেন চিফ হুইপ।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, বুধবার তিনজন সংসদ সদস্য তাকে জানিয়েছেন, তাদের নম্বর থেকে ‘জরুরি ভিত্তিতে ৫০ হাজার’, ‘৩০ হাজার’ এবং ‘২৫ হাজার টাকা’ পাঠানোর বার্তা এসেছে। যে নম্বরগুলো থেকে বার্তা পাঠানো হয়েছে, সেগুলোর মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। চিফ হুইপের ধারণা, সংশ্লিষ্ট মুঠোফোন নম্বরগুলো হ্যাক করা হয়েছে।
সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এ ধরনের প্রতারণা ঠেকাতে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। বিষয়টি সংসদে তুলে ধরার মাধ্যমে দেশের মানুষকেও এ বিষয়ে সতর্ক করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
চিফ হুইপ আরও জানান, শুধু মুঠোফোন নম্বর হ্যাক নয়, ভয়েস ক্লোন এবং বিভিন্ন কাগজপত্র ব্যবহার করেও প্রতারণা করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও স্বাক্ষর জাল করে নথি উপস্থাপনের ঘটনাও ঘটছে। বিরোধী দলের পাশাপাশি সরকারি দলের সংসদ সদস্যরাও এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে জানান তিনি।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, নির্বাহী বিভাগ বা সরকারের বলে উল্লেখ করেন। ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সংসদ সদস্যদের এ ধরনের ঘটনার জন্য দায়ী করা যায় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জবাবে চিফ হুইপ জানান, বিষয়টি নিয়ে বুধবারই আলোচনা হয়েছে। এ ধরনের প্রতারণা প্রতিরোধে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কাজ শুরু করেছে বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে, সংসদ ভবনের লবিতে থাকা ফেস রিডিং ডিভাইস ব্যবহারের বিষয়েও সংসদ সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন চিফ হুইপ। তিনি জানান, লবিগুলোতে ফেস রিডিংয়ের ব্যবস্থা থাকলেও প্রতিদিন সব সদস্য তা ব্যবহার করেন না; প্রায় ১২০ থেকে ১২২ জনের মতো ফেস রিডিং করেন।
সংসদ থেকে তাকে জানানো হয়েছে, সব সংসদ সদস্য যেন ফেস রিডিং করে সংসদ কক্ষে প্রবেশ করেন। এ কারণে বৃহস্পতিবার সংসদ থেকে বের হওয়ার সময় প্রত্যেক সদস্যকে ফেস রিডিং সম্পন্ন করার অনুরোধ জানান তিনি।
এ ধরনের হ্যাকিং ও জালিয়াতির ঘটনায় সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে।