বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি পুরোপুরি বাতিলের পথে না গিয়ে সেটির বিভিন্ন শর্ত পুনর্বিবেচনার পক্ষে মত দিয়েছে সরকার। চুক্তির বিতর্কিত ও ‘সমস্যাজনক’ অংশগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসতে চায় বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে সরকারের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহের উর রহমান।
তিনি জানান, গত ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরটি)’ চুক্তিতে বাতিলের সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি আলোচনার মাধ্যমে শর্ত পরিবর্তনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় পথটিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জাহের উর রহমান বলেন, চুক্তিটি নিয়ে সরকারের অভ্যন্তরে পর্যালোচনা চলছে। কোন কোন ধারা রাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, সেগুলো চিহ্নিত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকার বুঝতে পারছে, কী প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল এবং এটি বাতিল করলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও পারস্পরিক শুল্কসংক্রান্ত জটিলতা নতুন করে তৈরি হতে পারে।
উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তিতে ৬০ দিনের নোটিশ দিয়ে বাতিলের বিধান রয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে শর্ত সংশোধনের সুযোগও রাখা হয়েছে। সরকার এখন সেই আলোচনার সুযোগ কাজে লাগাতে চায়।
তিনি বলেন, “যেসব বিষয়কে আমরা বেশি সমস্যাজনক মনে করছি, সেগুলো নিয়ে আগে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণ করব। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নেগোসিয়েশনে যেতে চাই।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এআরটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় গত ৯ ফেব্রুয়ারি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে। চুক্তিটি নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে এখনো আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ইয়াসীন।